ঈদের দিন ঢামেকে মায়ের সেই আহাজারি থামাল র‍্যাব

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছিল মাজহারুল ইসলামের পরিবারে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই বছরের শিশু কাজী ফুজাইলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল মুক্তিপণের রুদ্ধশ্বাস নাটক।তবে শেষ রক্ষা হয়নি অপহরণকারীর। র‍্যাব-১০-এর ঝটিকা অভিযানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে অপহৃত শিশুকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারসহ গ্রেফতার করা হয়েছে মূল হোতা এম এম তানভীরকে (৩৫)। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে অসুস্থ নানাকে দেখতে মা ও খালার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিল ছোট্ট ফুজাইল। দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটের দিকে হঠাৎ দেখা যায় ফুজাইল পাশে নেই। চারদিকে খোঁজাখুঁজি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিকেল ৪টায় এক অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে ফুজাইলের বাবার কাছে। দাবি করা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ। রাত গড়াতেই অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে অপহরণকারীরা।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে র‍্যাব জানতে পারে অপহরণকারী শিশুটিকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় অবস্থান করছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ধলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী তানভীরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কোল থেকে উদ্ধার করা হয় ছোট্ট ফুজাইলকে। আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে পিস্তলসহ দুর্ধর্ষ ‘দাগী রুবেল’ গ্রেফতার!প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তানভীর জানায়, সে পরিকল্পিতভাবেই হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে সরিয়ে নিয়েছিল। শিশুটি মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করলে তাকে খেলনা ও চকলেট দিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করত সে। অপহরণকারী তানভীরের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকায়।র‍্যাব-১০-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম হাসান সিদ্দিকী জানান, উদ্ধার করা শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।