এইতো, মাত্র বছর তিনেক আগের কথা— লঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ব্যাট করার জন্য মাঠে নামলেন ঠিকই, তবে পপিং ক্রিজে দাঁড়ানোর আগেই তাকে ফিরতে হয় সাজঘরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটিই ছিল প্রথম টাইমড আউটের ঘটনা।২০২৩ বিশ্বকাপে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বিপক্ষে টাইমড আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার মারাইস এরাসমাসও সেই আবেদনে সাড়া দেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই আম্পায়ারও অনন্য এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জায়গা করে নেন ইতিহাসের পাতায়। চলতি বছরের শেষের দিকে তার একটি বই প্রকাশ পাবে। সেখানে আইসিসি এলিট প্যানেলের সাবেক এই আম্পায়ারের জীবনের নানা অজানা অভিজ্ঞতার কথা থাকবে। মূলত আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর চিন্তা থেকেই তিনি এই লেখালেখি শুরু করেন, যেখানে তুলে ধরছেন দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিগুলো। আরও পড়ুন: ফাঁকা মাঠে হবে এবারের পিএসএল, খেলা সীমিত দুই শহরেআজ ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোভিনশাল ওয়ানডে চ্যালেঞ্জের (লিস্ট ‘এ’) ম্যাচ দিয়ে আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন এরাসমাস। ২০০০ সালে ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু। আম্পায়ার হিসেবে পরে ৮২টি টেস্ট, ১২৫ ওয়ানডে ও ৬১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন এরাসমাস। গত মাসেই ৬২ বছরে পা দিয়েছেন এরাসমাস। অবসর নিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের (স্ত্রী ও তার) ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গেছে এরই মধ্যে। মে মাসে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক আর জুনে ইতালি যাচ্ছি। নতুন বছরে আমি কিছু টেস্ট ম্যাচও দেখব।’ ২০২৪ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন মারাইস এরাসমাস, যা ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এর আগে, ফেব্রুয়ারিতেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া লিগের ম্যাচেই দেখা দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাকে। আরও পড়ুন: বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ, ধারাভাষ্য থেকে অবসর শিবরামকৃষ্ণানের এর আগে থেকেই অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় আম্পায়ারদের মেন্টর হিসেবে নতুন ভূমিকায় কাজ শুরু করেছেন এরাসমাস। ভবিষ্যতেও এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ আম্পায়ারিং অভিজ্ঞতাকে তিনি পরবর্তী জীবনে কাজে লাগাতে চান, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের আম্পায়ারদের গড়ে তুলতে। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অংশীদার হয়েছেন আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস। মর্যাদাপূর্ণ অ্যাশেজ সিরিজে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ১৬টি ম্যাচে, আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়েও মাঠে ছিলেন সাতবার। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাকে। নিজের ধারাবাহিক দক্ষতা ও নির্ভুল সিদ্ধান্তের জন্য তিনবার— ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১ সালে আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের সম্মান অর্জন করেন এরাসমাস, যা তার সফল ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল স্বীকৃতি।