জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও এর ‘কালো ছায়া’ এখনও রয়ে গেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সংকট এখনও কাটেনি। সমাজে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান।রোববার (২২ মার্চ) সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিলেটের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নতুন ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি তৈরি করতে গত নির্বাচন বর্জন করেননি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতের ধারায় আমরা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রত্যাখ্যান করিনি। আমরা বলেছি, বুকে চাপ নিয়ে নির্বাচন মেনে নিয়েছি। তারপরও টিআইবি, সুজনের মতো সংগঠন নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে। আমরা মনে করি গত নির্বাচন কেমন হয়েছে তা বোঝার জন্য এসব প্রতিবেদন সহায়ক হবে।’তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গণভোটের এক অংশ বাস্তবায়ন হলেও অন্য অংশটি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।সংবিধান পরিবর্তনকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়। আমাদের দেশের সংবিধান সংশোধন এখন জাতির দাবি, যা সরকারকে দ্রুত পূরণ করতে হবে।’ আরও পড়ুন: ভয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনলে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরেরবর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে এই রাষ্ট্রপতির ওপর আমাদের আপত্তি আছে। কারণ, তিনি কার্যত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি সংসদে ভাষণ দেবেন–তা আমরা চাইনি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান থাকলেও এই ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’ এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান।দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।এ ছাড়া ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করব না।’ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেটে আসার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “পথে ভাঙাচোরা দেখলেই মনে হয়েছে ‘ওয়েলকাম টু সিলেট’। শুধু সড়ক নয়, সব খাতেই সিলেটের প্রাপ্যটুকু নিশ্চিত করতে হবে। আমরা অতিরিক্ত কিছু চাই না, আমাদের ন্যায্য অধিকারটুকুই চাই।”সিলেটের সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের কাজ হওয়া উচিত, যাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।মতবিনিময় সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আমিরে জামায়াত দক্ষিণ সুরমা থানা আমির মরহুম মাওলানা মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।