রমজানে দানের অভ্যাস ধরে রাখা চাই বছরের অন্য সময়েও

আত্মশুদ্ধি ও মানবতার মাস রমজান এলেই আমরা অনেক বেশি দানশীল হয়ে উঠি। আমরা অভাবীদের সহায়তা করি এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি উদারতা দেখাই। কিন্তু আমাদের কি একবারও ভেবে দেখা উচিত নয় যে, মানবতার সেবা কি কেবল রমজানেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?দান-সদকার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এক চমৎকার উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা নিজেদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের দান বৃক্ষের মতো, যা থেকে বহু শাখাপ্রশাখা বিস্তার লাভ করে।  রমজানে আমরা যে দানের চর্চা করি, তা যদি সারা বছর বজায় রাখা যায়, তবে আমাদের এই সমাজটি হয়ে উঠবে আরও মানবিক ও সহানুভূতিশীল। দান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হলো 'নিয়ত' বা একনিষ্ঠতা। রমজানে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করি, কিন্তু বছরের বাকি সময়ও আমাদের দান-সদকা কি শুধুই আল্লাহর জন্য হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। আল্লাহ বলেন, তাদেরকে কেবল এক কথাই আদেশ করা হয়েছিল যে তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।অনেকেই হয়তো ভাবেন সারা বছর দান করলে সম্পদ কমে যাবে। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে বলেছেন, দান-সাদাকা করলে কখনো সম্পদ কমে না। (সহিহ মুসলিম)।  এছাড়া আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে আমাদের সতর্ক করে বলেছেন,  তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ কল্যাণ বা পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। (সূরা আল ইমরান: ৯২)।  সুতরাং প্রিয় দর্শক, রমজান আমাদের জীবনের জন্য একটি মডেল বা প্রশিক্ষণ মাত্র। এই এক মাসে আমরা যে পরিশুদ্ধতা অর্জন করি, যে সহানুভূতির শিক্ষা আমরা পাই, সেটাকে সারা বছর ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবেই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা আমাদের জীবনে সফল হবে। আসুন, রমজানে শুরু হওয়া আমাদের এই দানের হাত বছরের বাকি দিনগুলোতেও অভাবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমিন।