লাউয়াছড়ার পথে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে আজ সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপে ভানুগাছ শ্রীমঙ্গলে দীর্ঘ যানজট লেগেই আছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের। মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পের অন্যতম হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক এসেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রচুর পরিমাণ পর্যটক রয়েছেন। তবে গত শনিবার ঈদের দিন থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ভানুগাছ- শ্রীমঙ্গল সড়কে প্রতিদিন বিকেলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। টুরিস্ট পুলিশ ও বনবিভাগের কিছু সদস্য যানজট নিরসনে কাজ করলেও এর সমাধান হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর থেকেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়। উদ্যানের পাশে ছোট একটি পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও তা গাড়ির তুলনায় খুবই সংকীর্ণ। সড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, জিপগাড়ি রাখার কারণে পর্যটকের গাড়ি এলেই যানজট সৃষ্টি হয়। দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটককেও যানজটে আটকা পড়তে দেখা যায়। যানজটে আটকা পড়া পর্যটকরা বলেন, দীর্ঘ ৩-৪ কিলোমিটার সড়কে যানজট লেগেই আছে। কয়েকজন ছাড়া এটি নিরসনে কেউ কাজ করছে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উদ্যানের সামনে এসে অনেক পর্যটকের সময় নষ্ট হয়েছে। বন বিভাগ ও টুরিস্ট পুলিশের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সিএনজি অটোরিকশার চালক সাব্বির আহমেদ বলেন, সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলম। যাওয়ার সময় যানজট ছিল, আসার সময়ও প্রায় ৪ কিলোমিটার যানজট ছিল। পর্যটক নিয়ে আসা বড়বড় বাস যাওয়ার সময় যানজট সৃষ্টি হয়। কারণ বিভিন্ন যানবাহন সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। বনবিভাগ বলছে, অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনের কারণে এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বনবিভাগ ও টুরিস্ট পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যানজট নিরসনে টুরিস্ট পুলিশ সবসময় কাজ করছে। সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি থাকায় ও উদ্যানের সামনে বেশি গাড়ি থাকায় বিকেলে এই যানজট সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এম ইসলাম/এফএ/জেআইএম