Somoy TV
ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি রাজধানীর বাজার। বেশকিছু দোকানপাট এখনও বন্ধ, ক্রেতার উপস্থিতিও কম। তবে ক্রেতা কম থাকলেও কমেনি নিত্যপণ্যের দাম। মাংস ও সবজির বাজারে দেখা গেছে চড়া দামের প্রবণতা।শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে অনেক ব্যবসায়ী এখনও পুরোপুরি দোকান খুলে বসেননি। ফলে সরবরাহ কিছুটা কম। অন্যদিকে যারা বাজারে আসছেন তাদের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। তবুও কমেনি দাম। বরং বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের চেয়ে বেশি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে থেকেই বাজারে মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৩০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি-সব ধরনের মুরগির দামই বাড়তি। সোনালি মুরগি ৫০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ৭০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের দামকে কেন্দ্র করে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দামও বেড়েছে। মুরগি বিক্রেতা দিদার বলেন, জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে খামার থেকে বাজার পর্যন্ত মুরগি আনতে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। সেই বাড়তি খরচের প্রভাবই পড়ছে দামে। আরও পড়ুন: ৩০ টাকার সবজি কেন ঢাকায় এসে সেঞ্চুরি ছাড়ায়? গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ঈদের আগের বাড়তি দামেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এদিকে সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, করলা ১৬০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি। উচ্ছে ১৬০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা ও লাউ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি, টমেটো ৪০-৫০ টাকা এবং শিম ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। বর্তমানে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর এখনও বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। অনেক ক্রেতা এখনো ঢাকায় ফেরেননি। আবার অনেক ব্যবসায়ীও দোকান খোলেননি। এতে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাইকারি বাজারেও দাম কিছুটা বাড়তি, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
Go to News Site