Somoy TV
ডিম উৎপাদনের খরচ সামলাতে না পারায় মাঝপথেই ঝরে পড়ছেন অসংখ্য পোলট্রি খামারি। অনেকের অবস্থা এমন যে তারা সম্পূর্ণ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে খাত সংশ্লিষ্টরা বিপণন কাঠামোর দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন।মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে খামার চালাতে গিয়ে প্রান্তিক খামারিরা দেনার বোঝায় জর্জরিত। অনেকের খামারে মুরগি-ডিম থাকলেও তারা এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। খামারিরা বলেন, ‘ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ টাকার বেশি। কিন্তু ৫ টাকা ৬০ পয়সা বা ৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। মাঝখানের টাকা কোথায় যাচ্ছে, আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।’ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের অধিকাংশ খামারির গল্প প্রায় একইরকম। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে কম দরে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসান, ঋণের চাপ ও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় তারা জর্জরিত। প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। অনেক খামারি দিশেহারা, কেউ কেউ খামার বন্ধ করার কথাও ভাবছেন। একজন খামারি বলেন, ‘আমার ২০ লাখের বেশি মুরগি ছিল, যা এখন ৩ লাখে নেমে এসেছে। প্রতিটি উপজেলায় এভাবে শত শত খামার বন্ধ হয়েছে। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের বেতন, বিদ্যুৎ খরচ, ওষুধের দাম-সবই বেড়েছে। চার মাস ধরে আমার ক্ষতি হচ্ছে, যা বহন করার আর কোনো শক্তি নেই। আমি নতুন প্রোডাকশনের মুরগি বিক্রি করতে পারছি না, খরচ তুলতেও পারছি না’ আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের ডিম-মুরগি আমদানিতে সৌদির নিষেধাজ্ঞা খামারিরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে একের পর এক খামার বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশীয় ডিম উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রান্তিক খামারিদের লোকসান এবং দিশাহীনতার মূল কারণ হিসেবে বিপণন কাঠামোর দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক খামারিদের মাধ্যমে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সেটাকে সাস্টেইনেবল রাখা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এ খাতের সঙ্গে জড়িত। যদি আমরা উদার না হই, প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না, আর তখন গ্রামীণ অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরও প্রান্তিক খামারিদের নানা প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করেছে এবং তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার উদ্যোগী বলে জানিয়েছে মহাপরিচালক আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, প্রতিদিন বাজারে সাড়ে ছয় কোটির বেশি ডিম আসে। এজন্য মিনিমাম সাড়ে ছয় কোটি মুরগি পালন করতে হচ্ছে। তবে তাদের খাদ্য খরচই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। খামারিদের এমন পরিস্থিতিতে মূল্য ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কৃষি খাতে যেখানে সার, বীজ বা অন্যান্য খাতে ভর্তুকি দেয়া হয়, পোলট্রি খাতে সেই ধরনের সহায়তা নেই। যদি আমরা কিছুটা হলেও তাদের সাপোর্ট দিতে পারি, তবে প্রান্তিক খামারিরা টিকে থাকবে। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর মনে করে, লাভজনক খামার গড়ে তুলতে খামারিদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া অপরিহার্য। সঠিক জ্ঞান ও সহায়তা পেলে খামারিরা কেবল নিজেরা টিকে থাকবে না; দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
Go to News Site