রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফিরলেও পদ্মায় বাসডুবিতে গেল সেই নাসিমার প্রাণ
Somoy TV

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফিরলেও পদ্মায় বাসডুবিতে গেল সেই নাসিমার প্রাণ

রানা প্লাজা ধসের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম। তবে এবার আর ফেরা হলো না তার। পদ্মায় বাসডুবিতে চিরতরে হারিয়ে গেলেন ৪০ বছর বয়সি এই নারী। দুই স্বজনসহ নাসিমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি না পেয়ে ঈদের ছুটিতে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান। ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা ডুবে যান। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডুবুরি দল নাসিমাসহ বাকি তিনজনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর পারিবারিক গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পদ্মায় বাসডুবি: অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় এতো প্রাণহানি! এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি।’ অন্যদিকে, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

Go to News Site