Somoy TV
বার্সেলোনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ২০২১ সালে কেন লিওনেল মেসি ক্লাব ছাড়তে বাধ্য হন। তার মতে, এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে নতুন চুক্তি করা ‘সম্ভব’ ছিল।সে বছর আগস্টে কাঁদতে কাঁদতে কাম্প ন্যু ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেন মেসি। কাতালোনিয়ার আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবেই ক্লাব ছাড়েন। বার্সা এক পর্যায়ে আশা করেছিল, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা হয়তো বিনা পারিশ্রমিকেই খেলতে রাজি হবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যায়, যা একসময় আনন্দময় ছিল, পরে তা হয়ে ওঠে টানাপোড়েনপূর্ণ।এরপর থেকে মেসি খুব কমই বার্সেলোনায় গেছেন। সম্প্রতি তিনি গোপনে কাম্প ন্যুর সংস্কার কাজ দেখতে গিয়েছিলেন। তবে ফ্রান্সে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর এই মাঠে খেলেননি, যদিও তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেগঘন ম্যাচ বা বিদায়ী আয়োজনের দাবি উঠেছে বারবার।বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা এখনও এমন কোনো আয়োজন করতে পারেননি। তিনি বরং দাবি করেছেন, বার্তোমেউর আমলের আর্থিক বিশৃঙ্খলার কারণেই মেসিকে ক্লাব ছাড়তে হয়েছে। আরও পড়ুন: ‘মাথাই ঠিক করবে অবসর’—রোনালদো প্রসঙ্গে পর্তুগাল কোচতবে বার্তোমেউ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যদি বর্তমান বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিত, তাহলে লিও মেসির চুক্তি নবায়ন করা পুরোপুরি সম্ভব ছিল, এমনকি নতুন খেলোয়াড়ও আনা যেত।’তিনি আরও বলেন, ‘এটা আগের বোর্ডের দায় নয়, বরং ফিনান্সিয়াল ফেয়ার প্লের নিয়মের বিষয়। নতুন বোর্ড ক্ষতির পরিমাণ ৫৫৫ মিলিয়ন ইউরো দেখায়। কিন্তু পরে লা লিগা দ্বিতীয়বার যাচাই করে দেখে, প্রকৃত ক্ষতি এতটা ছিল না, প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ইউরোর প্রভিশন ছিল। তবুও বার্সা তাদের অবস্থান বদলায়নি, ফলে ফেয়ার প্লে নিয়মে শাস্তি পায়, যা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।’ বার্সেলোনা থেকে মেসির বিদায়ের দায় বর্তমান বোর্ডের কাঁধে দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। ছবি: রয়টার্সবার্তোমেউ আরও দাবি করেন, মেসির সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে, ‘মেসি তার পারফরম্যান্স, আর্থিক ও বাণিজ্যিক অবদানের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পেয়েছে। সে এই তরুণ দলের সঙ্গে থেকে নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে চেয়েছিল, কিন্তু তাকে যেতে দেওয়া হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না।’উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ‘বুরোফ্যাক্স’ কাণ্ডে মেসি ক্লাব ছাড়তে চাইলেও তখন তাকে আটকে দেন বার্তোমেউ। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে।আরও পড়ুন: রোনালদোও কী মেসির মতো হতে চান?সে সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে বার্তোমেউ বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চে লকডাউন শুরু হলে ক্লাবের আয় বন্ধ হয়ে যায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ১৪% বেতন কমানোর চুক্তি হয়, যাতে ৯০ মিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হয়। পরে স্টেডিয়াম খোলা যাবে না জানানো হলে ২০% বেতন কাটার প্রস্তাব দিই, তখনই সমস্যা তৈরি হয়, কারণ খেলোয়াড়রা রাজি হয়নি।’শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা মেসিকে ধরে রাখতে পারেনি। ক্লাবটির হয়ে ৬৭২ গোল ও ৩৪টি ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে তিনি বিদায় নেন। বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী মেসি এমএলএস কাপজয়ী ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠেছেন।
Go to News Site