Somoy TV
ইরানজুড়ে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি রাজনীতিবিদরা। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে।ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার কারণে বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। দেশটির বিদ্যুৎ ও ইস্পাত শিল্পকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের অর্থনীতি। বিশেষ করে ইসফাহান ও আহভাজের বিশাল ইস্পাত কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এখন হুমকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবছে ইরান। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জেরে ক্ষুদ্ধ দেশটির রাজনীতিবিদরা। তারা সাফ জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি বর্তমানে ইরানের জন্য অর্থহীন হয়ে পড়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, এই চুক্তি ইরানকে কোনো সুরক্ষা দিতে পারেনি। ফলে পার্লামেন্টে এনপিটি থেকে নাম প্রত্যাহারের একটি বিশেষ বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা পাস হলে ইরান আর আন্তর্জাতিক পরমাণু বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করবে না। আরও পড়ুন: কী হতে পারে ইরান যুদ্ধের পরিণতি? আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে তেহরান। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসিকে ইরানে চলমান আগ্রাসনের ‘অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, গ্রোসির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট শত্রুদের ইরানি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে, যা পুরো অঞ্চলকে পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। যদিও ইরান বলছে, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা পারমাণবিক অস্ত্রের তৈরির দিকে এগোচ্ছে। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ছদ্মবেশে ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত গোয়েন্দাগিরি বন্ধ করা।
Go to News Site