জ্বালানি সরবরাহ গত বছরের সমপরিমাণ হলেও সংকট কেন?
Somoy TV

জ্বালানি সরবরাহ গত বছরের সমপরিমাণ হলেও সংকট কেন?

জ্বালানি গত বছরের সমপরিমাণ সরবরাহ করা হলেও কাটছে না সংকট। পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, একদিকে যেমন চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে থামেনি আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল কেনার প্রবণতাও। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমন্বয়হীনতা, যথাযথ পরিকল্পনার অভাব আর ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি চলমান সংকটের জন্য দায়ী। চাহিদা কমিয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ তাদের।রাজধানীর পরিবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে সেখানে দিনে অকটেন বিক্রি হত ২০ হাজার লিটারের মতো। বর্তমানে যা উন্নীত হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটারে। তারপরও জ্বালানি তেল পেতে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কিন্তু কেন? ওই পাম্পের হিসাব কর্মকর্তা মীর আজিম বলেন, ‘অন্যান্য অনেক পাম্প বন্ধ। তাই আমাদের এখানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কারণে চাপ বেড়েছে।’  রাজধানীর বিজয় সরণীর এক ফিলিং স্টেশনে গিয়েও দেখা যায়, চিত্র একই রকম। আগের তুলনায় বিক্রি বাড়লেও কমেনি গ্রাহকের চাপ। বরং দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আরও পড়ুন: ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞের? ট্রাস্ট এনার্জি নামের ওই পাম্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জামাল হোসাইন বলেন, আগে এখানকার লাইনটা জাহাঙ্গীর গেইট ক্রস করত না। কিন্তু এখন লাইন এর পেছনে চলে গেছে। এখানে চাপ বাড়ার দুটি কারণ। একটা হয়ত, অন্য জায়গায় না পেয়ে এখানে আসছে। আর অন্যটি হচ্ছে, গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে তেল একটু বেশি নেয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি বিভাগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সংকটের শঙ্কায় গ্রাহকদের বাড়তি তেল কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। মার্চের প্রথম পাঁচদিনে ডিজেল বিক্রি হয় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হারে। পরিস্থিতি সামলাতে এরপর টানা ৯ দিন তেল বিক্রি হয় রেশনিং পদ্ধতিতে। ঈদযাত্রা সামনে রেখে রেশনিং উঠিয়ে নেয়ার পর ১৬ থেকে ১৮ মার্চ জ্বালানি তেল বিক্রির হার বাড়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ঈদের পর ডিপো থেকে তেল দেয়া হচ্ছে গত বছরের সঙ্গে মিল রেখে। তবে ঈদের লম্বা ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার জটিলতায় চাহিদামাফিক তেল নিতে পারেনি অনেক পাম্প। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘তেল না দেয়ার ফলে অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে। একটা রাস্তায় ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কয়েকটা পাম্প কেউ বন্ধ দেখেন, তবে তাদের ভেতরে আতঙ্ক কাজ করে। এ বাস্তবতার নিরিখে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, ততই সমস্যা হবে।’  আরও পড়ুন: ব্যয় বাড়ায় কমছে ধান উৎপাদন, যা বলছেন বিশ্লেষকরা একইসঙ্গে চলমান সংকটের পেছনে অবশ্য ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাগিদ দিচ্ছেন চাহিদা নিয়ন্ত্রণের কৌশল খোঁজার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, পেট্রোল এবং অকটেনের বেশির ভাগই ব্যবহার হয় সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে। এই যে আমাদের এতগুলো গাড়ি আছে, সেগুলো তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তারা যদি বলে দেয় যে এখানে এক মাসের জন্য অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে, তাহলে কিন্তু চাহিদা অনেক কমে যায়।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকটে সাশ্রয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

Go to News Site