Somoy TV
এইচবিএল পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) প্রথম ম্যাচ হারের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পেলো কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। দিনের প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৪০ রানে হারিয়েছে কোয়েট্টা। অন্যদিকে, প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই হারের স্বাদ পেলো হায়দরাবাদ।রোববার (২৯ মার্চ) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ইনিংসের সূচনায় ওপেনিং জুটিতে মাঠে নামেন সৌদ শাকিল ও শামিল হুসাইন। তবে শুরুটা ভালো হলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শাকিল। দলীয় ২১ রানের মাথায় ভেঙে যায় উদ্বোধনী জুটি; ৪ বলে ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা রাইলি রুশোও হতাশ করেন। মাত্র এক ওভার পরই বিদায় নেন এই ব্যাটার—৫ বল মোকাবিলা করেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে ২৫ রানের মধ্যেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শামিল হুসাইন ও হাসান নাওয়াজ। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে কোয়েট্টা। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রান। এরপরও রান তোলার গতি ধরে রেখে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান এই জুটি। চারদিকে দৃষ্টিনন্দন শটে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রাখেন তারা। আরও পড়ুন: পিসিবির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন গিলেস্পি শামিল-হাসানের জুটিতে ইনিংসে স্থিতি ফিরে পায় কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে দুজনই তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। শামিল হুসাইন ৪১ বলে ৫৪ রান করে দলীয় ১১৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন। অন্যদিকে, হাসান নাওয়াজ ৪০ বলে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এই দুই ইনিংস ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন টম কারান, যিনি ১৮ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ক্যামিও খেলেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। হায়দরাবাদ কিংসমেনের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিলে মেরেডিথ, তিনি নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া আকিফ জাভেদ ও মাহিশ থিকশানা দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ কিংসমেন। ওপেনিংয়ে নামা সাইম আইয়ুব প্রথম ওভারেই বিদায় নেন, আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪ বলে ৮ রান। পরের ওভারেই ফিরে যান মাজ সাদাকাত, রানের খাতা খোলার আগেই ২ বলে আউট হন এই ব্যাটার। মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক মারনাস লাবুশেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। চার নম্বরে নামা উসমান খান ১৮ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৭ রান। আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই মাঠে ফিরছেন তানজিম সাকিব! এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। সৈয়দ সাদ আলী ১২ বলে ৭ রান করে আউট হন। কিছুটা লড়াই করা লাবুশেনও ২১ বলে ২৩ রান করে ফিরে গেলে ৫৭ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে হায়দরাবাদ। শেষদিকে ইরফান খান ও হাসান খান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হাসান ১৯ বলে ৩১ এবং ইরফান ২৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন। তাদের এই জুটিতে হারের ব্যবধান কিছুটা কমলেও জয়ের আশা আর জাগেনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে থামে হায়দরাবাদ কিংসমেন, ফলে ৪০ রানের জয় পায় কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স। বল হাতে কোয়েট্টার হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আবরার আহমেদ, তিনি একাই নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া আহমেদ দানিয়েল ২টি এবং উসমান তারিক, সৌদ শাকিল ও আলজারি জোসেফ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেন।
Go to News Site