Somoy TV
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জি টাওয়ার হোটেলে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘প্রবাসীদের মিলন মেলা’ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি মালয়েশিয়া ও এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুয়ালালামপুরের জি টাওয়ার হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মালয়েশিয়ার সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপি মালয়েশিয়া শাখার দফতর সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম (রতন) ও সহদফতর সম্পাদক এ কে এম হাবিবুর রহমান শিশির।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম শেষে এক নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই অর্জনে বিদেশের মাটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে মালয়েশিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ সভায়।আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরানঅনুষ্ঠানে বক্তারা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ১৬ বছরের আপসহীন সংগ্রামের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিশেষ করে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলা হয়, তার সঠিক দিকনির্দেশনার কারণেই ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। সিরিয়া বা অন্যান্য দেশের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের তুলনায় বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, যার ফলে ‘ইকোনমিস্ট’র তালিকায় সেরা দেশের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ।বর্তমানে সরকার গঠনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় তারেক রহমানের নির্দেশে জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, খাল খনন কর্মসূচি এবং সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের মাসিক সম্মানী প্রদানের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন ‘অসাধারণ হয়েও সাধারণ’ জীবন যাপন করছেন, যা দেশের মানুষের জন্য এক বিরল দৃষ্টান্ত। পরিশেষে, প্রবাসীদের আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।বক্তারা প্রবাসে থেকেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বাধীনতা দিবসের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে ঈদের আনন্দ প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই মিলন মেলার আয়োজনকে সাধুবাদ জানান। আলোচনা সভা শেষে প্রবাসীদের অংশগ্রহণে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Go to News Site