Collector
ড্রিংকওয়েলের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই ওয়াসার লাইনের পানি বিশুদ্ধ হয় না! | Collector
ড্রিংকওয়েলের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই ওয়াসার লাইনের পানি বিশুদ্ধ হয় না!
Somoy TV

ড্রিংকওয়েলের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই ওয়াসার লাইনের পানি বিশুদ্ধ হয় না!

পানিতে ময়লা আর দুর্গন্ধ বাড়লে ব্যবসা বাড়ে ওয়াসার। তখন একদিকে গ্রাহককে দিতে হয় পানির বিল, অন্যদিকে ওয়াসারই এটিএম বুথ থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে কিনতে হয় বিশুদ্ধ পানি। সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে থাকলেও ঠিকই লাভবান হয় ওয়াসা।শুধু ময়লা নয়, তীব্র বাজে গন্ধও ওয়াসার পানিতে। সরকার আসে সরকার যায়, তবে ওয়াসার পানি কখনোই বিশুদ্ধ হয় না। তাই বাধ্য হয়ে এখন এ দুর্গন্ধযুক্ত পানিই পান করছে বাসাবো এলাকার মানুষ। বাসাবো এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়াসার লাইনের পানির সঙ্গে ময়লা ও বিভিন্ন ধরনের পোকাও আসে। ট্যাঙ্কিতে পানি জমিয়ে রাখলে এসব আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাই বাধ্য হয়ে ট্যাপের সঙ্গে ছাঁকনি ব্যবহার করতে হয় তাদের। একজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের পানি খুবই দুর্গন্ধ। ছোট ছোট কেঁচোর মতো পোকা থাকে। ছাঁকনি লাগাতে হয়েছে পানি ছেঁকার জন্য, না হলে ময়লা আসে। আরও পড়ুন: ওয়াসার পানিতে পোকা-ময়লা, নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে তবে ছেঁকে ব্যবহার করলেও সেই পানি ব্যবহার উপযোগী হয় না বলেও জানান তারা। তীব্র গন্ধ ও আয়রন থাকার কারণে রান্না থেকে শুরু করে সব কাজেই আলাদা করে কেনা পানি ব্যবহার করতে হয়। এমনকি ওয়াসার পানিতে গোসল করলেও শরীরে চুলকানি হয়। আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ওয়াসার পানি আমরা কোনো কাজেই ব্যবহার করতে পারি না। গোসল করতে হলেও কষ্ট হয়, খাবারের জন্য পানি কিনে আনি। গোসল করলে শরীরে চুলকানি হয়। এলাকাজুড়ে এখন দেখা যায়, অলি-গলি থেকে সড়ক, সবখানেই চোখে পড়ে বোতল, ড্রাম আর গ্যালন নিয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য ছুটছে সাধারণ মানুষ। গন্তব্য সেই ওয়াসার পাম্পেই, প্রতি ফোটার মূল্য দিয়ে আবারও ওয়াসার ছত্রছায়ায় গড়ে তোলা পানি পরিশোধন সংস্থা ড্রিংকওয়েল থেকে কিনতে হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি। একজন বাসিন্দা বলেন, বাসায় বাচ্চা আছে, তাই বাধ্য হয়ে পানি কিনে খাওয়াই। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে; তাহলে কি ড্রিংকওয়েলের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই ওয়াসার লাইনের পানি বিশুদ্ধ হয় না? এ বিষয়ে জানতে ওয়াসা ভবনে গেলে কর্মকর্তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মুঠোফোনে ওয়াসার উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে আজকে-কালকে কোনো বক্তব্য আপাতত দিতে পারছি না, কারণ অন্য কাজে ব্যস্ত আছি।’ আরও পড়ুন: বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম, লিটারে কত? তবে ক্যামেরায় না বললেও খুদে বার্তায় নিজেদের অবস্থান জানায় ওয়াসা। তারা জানায়, মোডস জোন-১ এর আওতাধীন বাসাবো এলাকায় পানি সরবরাহ বা ময়লা পানি সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাদের অভিযোগ কেন্দ্র বা ওয়াসা লিংকে পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় কোনো সমস্যা বিদ্যমান নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ড্রিংকওয়েল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। ড্রিংকওয়েলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহিন বলেন, ‘এখন বলতে পারব না, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।' বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ লিটার পানি বিক্রি হয় ওয়াসার বুথ থেকে। আর লাইনের পানিতে গন্ধ, ময়লা ও পোকা থাকার অভিযোগ থাকলে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায় বলেও জানান স্থানীয়রা।

Go to News Site