Jagonews24
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন বিমান কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতিতে একটি ‘কাঠামোগত বিভ্রান্তি’ রয়েছে। আমরা এই ধারণায় আচ্ছন্ন যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। কিন্তু এটি মাত্র ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বাজার। আমাদের প্রকৃত বৃহত্তম বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তার কথায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান বাজার হওয়া সত্ত্বেও সেখান থেকে পণ্য না কিনে মার্কিন বিমান কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতিবাদও এসেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান আয়োজন করে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। গত ১ মে ঢাকায় এ চুক্তি সই হয়। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন এশিয়ায়, বিশেষ করে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায়। তাই বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারও এই অঞ্চলভিত্তিক হওয়া উচিত। সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, বড় আকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হলে তা একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য কর্মসূচিকে একীভূত করে একটি বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাত দ্বিগুণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান ৮ শতাংশ কর আদায়ের হার বড় ধরনের বাজেট চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। উচ্চআয়ের স্তর থেকে যথাযথ কর আদায় না হওয়াকে তিনি বৈষম্যের অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি সংকট শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেই দুর্বল করেনি, বরং এটি আয় বৈষম্য বাড়ানোর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ একটি সংকীর্ণ অভিজাত শ্রেণির হাতে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন রেহমান সোবহান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুরুতে মধ্যপন্থি সামাজিক গণতান্ত্রিক অবস্থানে থাকলেও পরে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজমে’ জড়িয়ে পড়ে। একইভাবে বিএনপির নেতৃত্বের সামাজিক পটভূমিও কর আদায় ও ঋণ খেলাপি ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ। এসএম/ইএইচটি/এমকেআর
Go to News Site