Somoy TV
অপরাধের প্রমাণ লোপাট, তাৎক্ষণিক আতঙ্ক, চরম ক্ষোভসহ পাঁচটি কারণে দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাড়ছে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও অন্যতম কারণ।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজপথ, পাড়া-মহল্লা সবখানেই এখন প্রতিবাদের ঝড়। শিশু রামিসার নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো দেশ। অনলাইন-অফলাইনে মানুষের প্রতিক্রিয়াও তীব্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনায় উপচে পড়ছে নেটিজেনদের ক্ষোভ। কেউ দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন, আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন; আগের বহু ঘটনার মতো এটিও হয়তো একসময় চাপা পড়ে যাবে। গত দুই সপ্তাহে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা এবং মুগদার প্রবাসী হত্যাকাণ্ড। গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ কয়েক টুকরো করা হয়। এর আগে ১৭ মে সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন পরকীয়া প্রেমিকা। পরে তার মরদেহও আট টুকরো করা হয়। অন্যদিকে শরীয়তপুরে জিয়া উদ্দিন সরদার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো-টুকরো করে নদী ও ডোবায় ফেলে দেয় তার স্ত্রী। আরও পড়ুন: রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল রোববার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অপরাধীরা এখন অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধরন মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সময়ের প্রয়োজনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, নৌ পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়েছে। যখন যে ধরনের সমস্যা বাড়ছে, সে অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ জনবল গড়ে তুলতে হবে। মনোবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে খুনিদের এমন হিংস্রতা এবং মরদেহ বিকৃত করার পেছনে পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো-অপরাধের প্রমাণ লোপাট, তাৎক্ষণিক আতঙ্ক, চরম ক্ষোভ, প্রতিশোধ ও ওভারকিল, সহানুভূতির অভাব এবং মিডিয়া ও প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান বলেন, অনেক সময় খুনিরা আগেই পরিকল্পনা করে রাখে হত্যার পর মরদেহ নিয়ে কী করবে। আবার অতিরিক্ত ক্ষোভ থেকেও এমন ঘটনা ঘটে। যাকে হত্যা করা হয়েছে, তার প্রতি আগে থেকেই ক্ষোভ থাকলে হত্যার পর সেই ক্ষোভ মরদেহের ওপরও প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে পেশাদার অপরাধীরা। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতাও এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাড়ার অন্যতম কারণ। অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমানের মতে, অনেকের মধ্যে এমন হিংস্র মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে সমাজের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা বা সহানুভূতি কাজ করে না।
Go to News Site