Collector
‘রামিসার জন্য কাঁদছে দেশ’, ‘যৌন হিংস্রতা বেশি, প্রতিকার নেই’ | Collector
‘রামিসার জন্য কাঁদছে দেশ’, ‘যৌন হিংস্রতা বেশি, প্রতিকার নেই’
Somoy TV

‘রামিসার জন্য কাঁদছে দেশ’, ‘যৌন হিংস্রতা বেশি, প্রতিকার নেই’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। রামিসার জন্য কাঁদছে দেশ - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পল্লবীর রামিসাদের বাড়ির প্রতিটি দেওয়ালের হাহাকার। সাত বছরের ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুটির হাসিতে সারা বাড়ি মুখরিত থাকত, সেই রামিসা আর নেই। পাষণ্ড প্রতিবেশীর বিকৃত লালসার শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হলো তাকে। রামিসার শূন্য ঘরে পড়ে থাকা খেলার পুতুল আর আদরের বিড়ালছানা ‘মিনি’ আজ সঙ্গীহীন। মেয়ের শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার শুধু একটাই আকুতি-‘বিচার না পারেন না করেন, অন্তত আল্লাহর ওয়াস্তে সমাজটা বদলায়া দেন।’ রামিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ পুরো দেশ। খুনি সোহেলের প্রকাশ্য ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবীসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজপথে নেমে আসে হাজারো ক্ষুব্ধ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদের ঝড়। তাদের একটাই দাবি, এমন বর্বরতার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। যৌন হিংস্রতা বেশি, প্রতিকার নেই - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যৌন সহিংসতার ঘটনা কম-বেশি আছে। তবে বাংলাদেশের মতো এত বেশি হিংস্রতা ঘটে না অন্য দেশে। এ দেশের যৌন অপরাধীরা একজন নারী বা শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে নৃশংসভাবে হত্যা করছে তাদের। দিন দিন এই চিত্র ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। কিশোররা পর্যন্ত যৌন হিংস্রতা ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এক কিশোরের বিরুদ্ধে এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই কিশোরের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। গত বুধবার শিশু রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটের যুবক ধর্ষণের পর যে রকম হিংস্রভাবে হত্যা করেন, তা বর্ণনার অতীত। একই দিন রাজধানীর বনশ্রীর এক মাদরাসা থেকে এক বালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল প্রাথমিক তদন্তে ছেলেটি বলাৎকারের শিকার বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বে হামে মৃত্যুতে শীর্ষে বাংলাদেশ - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৮৮। ২০২৬ সালে বিশ্বে এটি হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ৪০৫ জন। একই সময়কালে হাম ও উপসর্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে সুদানে। সেখানে মারা গেছে ৩৭১ জন। অথচ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ছিল সুদান। সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুতে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তান। দেশটিতে হামে অন্তত ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোতে ৩২ জন, ইয়েমেনে ২৫, অ্যাঙ্গোলায় ১৫ এবং গুয়াতেমালায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। মৃত্যুর এ সংখ্যা হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মারা যাওয়াদের। আর সব দেশেই মূলত শিশুরা মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হালনাগাদ তথ্যের অভাব দেখা গেছে। বড় গরুর চাহিদা কম, বাড়ছে ভাগে পশু কোরবানি - দৈনিক বণিকবার্তার প্রথম পাতার আরেকটি খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান। পেশায় মাঝারি ব্যবসায়ী। তার একমাত্র ভাই থাকেন দেশের বাইরে। তবে প্রতি বছরই ঈদে দেশে আসেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। পাঁচ বছর আগেও দুই ভাই মিলে একটি গরু ও একটি খাসি কোরবানি করতেন। তবে চার বছর ধরে তারা ভাগে গরু কোরবানি করছেন। শুধু এ দুই ভাই-ই নন, রাজধানীর অনেক মানুষই এখন এককভাবে গরু কোরবানির পরিবর্তে ভাগে কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন। খামারি ও পশু বিক্রেতারা বলছেন, ভাগে কোরবানির ক্রেতা বাড়ায় তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে এবার ভাগে কোরবানির প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে পশুখাদ্যসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কোরবানির পশুর দামও বেড়েছে। বিপরীতে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে বড় পশু কোরবানির প্রতিযোগিতার চেয়ে এখন অনেকেই ভাগে কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন।মানুষের জন্য স্বস্তির বাজেট হোক - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হোক আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ধ্রুবতারা বা মূল লক্ষ্য। এ বাজেট হোক সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির। আর ব্যবসায়ীদের জন্য উচ্চ সুদের হার যেন আর না থাকে। করের চাপ কমানোর পাশাপাশি কর আদায়ে ব্যবসায়ীদের ওপর হয়রানিও যেন কমানো হয়। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা এসব বিষয় তুলে ধরলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সমানে। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, কত প্রবৃদ্ধি হলো, সেই ইতিহাস বলে লাভ নেই। সাধারণ মানুষের কী লাভ হলো, সেটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এমন প্রবৃদ্ধির কোনো মূল্য নেই, যা মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে পারে না।কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার চিন্তা - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জমি, ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক স্পেস-এই জাতীয় সম্পদ কেনাবেচার ক্ষেত্রে যেসব অর্থ কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় হয়ে যায়, তা বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের আয়কর রিটার্নে সম্পদের সঠিক মূল্য ঘোষণা করতে হবে, যেখানে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সম্পদ বেচাকেনার বড় একটা অংশ ঘোষণা করা হয় না। ফলে সরকার যথাযথ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। অপ্রদর্শিত অর্থ লুকিয়ে রাখার বড় জায়গা হলো আবাসন খাত। এর মূল কারণ হলো, মৌজা মূল্য ও প্রকৃত মূল্যের তফাত। সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করার সময় বড় অঙ্কের লেনদেন সম্পূর্ণ নগদ বা অনানুষ্ঠানিক উপায়ে হয়, যা অর্থনীতিতে সরাসরি কালো টাকা হিসেবেই থেকে যায়। বিদ্যুতের দাম বাড়লে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আরেকটি খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিদ্যুতের দাম খুচরা পর্যায়ে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে গণশুনানিতে। ভোক্তা প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, শিল্প উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে। একই সঙ্গে শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানের খুচরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শুনানিতে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর আগের দিন শুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

Go to News Site