Somoy TV
কোরবানি সামনে রেখে দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা। ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। তবে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। খামারিদের দাবি, ঈদের আগে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো গেলে এবার লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।কোরবানির বাকি হাতে গোণা আর মাত্র কয়েকদিন। শেষ সময়ে তাই পশুর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ভিটামিন ওষুধ ছাড়াই শুধু ঘাস, ভুট্টা, গম ও দানাদার খাবার খাইয়ে পশুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। কোরবানির জন্য পশুগুলোকে প্রস্তুত করতে যত্নের কোনো কমতি রাখা হচ্ছে না। আর দু-এক দিনের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন হাটের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব গরু বিক্রির জন্য নেয়া হবে। তবে কয়েক মাস ধরে গরু লালন-পালনের পর শেষ মুহূর্তে এসে খামারিরা বলছেন, এবার খামার ও হাটে গরুর দাম ভালো থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গরু আটকের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে খামারিদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, সারাবছর গরু লালন-পালনের পর শেষ মুহূর্তে ভারতীয় গরু ঢুকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় গরু যাতে কোনোভাবেই দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার মালিকরা। সদর উপজেলার পাঁকা, নারায়নপুর, মনাকষা ও আলাতুলী ইউনিয়নের তারবিহীন দুর্গম পদ্মার চর এলাকায় কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি তাদের। আরও পড়ুন: কোরবানির পশু পরিবহনে নতুন নির্দেশনা, ট্রাকে থাকতে হবে হাটের পরিচয় খামারি জহির রায়হান সময় সংবাদকে বলেন, আমরা ৩-৪ মাস নিজের সন্তানের মতো করে খামারের গরুগুলো লালন-পালন করি। খৈল, ভুসি, ডাল ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজা করি। অনেক আশা-স্বপ্ন নিয়ে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু ঈদের আগমুহূর্তে প্রতিবছর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গরু চোরাই পথে আসে। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে। এবারও শুনছি রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে গরু আসছে। সদর উপজেলার নারায়নপুর এলাকার ক্ষুদ্র খামারি জসিম উদ্দিন জানান, ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন গরু আসছে। বিজিবি-বিএসএফকে ম্যানেজ করেই এসব গরু আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে দেশের খামারিরা বড় বিপদে পড়বে। সরকারের কাছে অনুরোধ, সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হোক। দেশীয় গরু লালন-পালনকারী খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কোরবানির আগে যেকোনো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসা. শারমিন আক্তার জানান, খামারিদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। রোগবালাই প্রতিরোধে প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ চলছে। এছাড়া ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবিকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ করে সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, সীমান্তে রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর তৎপরতা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে নিবন্ধিত ১৩ হাজার ৫২২টি বাণিজ্যিক খামারে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০টি গরু লালন-পালন করা হয়েছে।
Go to News Site