Somoy TV
বন্ধ কারখানা সচল করতে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিতে চায় সরকার। এ জন্য অর্থায়ন নিশ্চিতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই সুবিধার সুফল পেতে ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ঋণ জালিয়াতি বা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন এই সুবিধা না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি। দলটির অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এরই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব নেয়ার প্রায় তিন মাসের মাথায় বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২০০টির বেশি বন্ধ কারখানা চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনটি খাতে ভাগ করে বড় শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ১০ হাজার কোটি এবং কৃষি খাতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মূলধন ঋণ হিসেবে দেয়া এই অর্থ ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে উদ্যোক্তাদের। এর মাধ্যমে আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারবেন কারখানা মালিকরা। সচল হবে ক্যাপিটাল মেশিনারিও। বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রোমান মিয়া বলেন, মেটেরিয়ালস অ্যারেঞ্জমেন্ট যদি আমরা সঠিক সময়ে আনতে পারি এবং প্রাইস ইনক্রিজিং সিচুয়েশন না থাকে, তাহলে আমাদের এক্সপোর্ট টার্নওভারে গত বছরের তুলনায় ২ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি সম্ভব। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুধু টাকা দিলেই ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব না। মার্কেটিং সক্ষমতা থাকতে হবে, শ্রমিক পরিচালনার দক্ষতা থাকতে হবে। পাশাপাশি অ্যাসেট ও লাইবিলিটির মধ্যে সমন্বয়ও জরুরি। আরও পড়ুন: ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও ব্যয় সাশ্রয়ে কাজ করছে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে ঋণের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য দেয়া ঋণ যেন বেহাত না হয় বা রাজনৈতিক পক্ষপাতের শিকার না হয়। একইসঙ্গে যেসব কারখানা সচল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ফ্রি অব কস্ট গুডস আনতে চান। কিন্তু এনবিআরের কিছু জটিলতা রয়েছে। নন-বন্ডেড ফ্যাক্টরি বন্ডেড ফ্যাক্টরি থেকে কাঁচামাল আনতে পারে না। এসব বিষয়ে নীতিগত সহায়তা দেয়া গেলে কারখানাগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে এই তহবিল এমন উদ্যোক্তাদের দিতে হবে, যারা সত্যিই কারখানা চালাতে সক্ষম। জনগণের টাকা আবারও অপচয় হোক, সেটা আমরা চাই না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা যেন সুযোগসন্ধানী বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের হাতে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক যখনই কোনো অর্থায়ন কর্মসূচি নেয়, তখন ক্ষমতাসীন বলয়ের কাছের লোকজনই বেশি সুবিধা পেয়ে যায়। তাই কোন কারখানাগুলো সত্যিকার অর্থে উৎপাদন সক্ষম, সেগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষ করে রফতানিমুখী কারখানাগুলোর দিকে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন। তবে এই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পুনঃঅর্থায়ন তহবিল নিয়ে নিরুৎসাহিত করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর অংশ হিসেবে রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
Go to News Site