Jagonews24
কারো সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন, ক্যান্ডেললাইট ডিনারে সময় কাটিয়েছেন কিংবা প্রিয় কোনো ক্যাফেতে গল্পে মেতে উঠেছিলেন। এরপর বাড়ি ফিরে একটি ছোট মেসেজ পাঠালেন‘ আজ খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় অপেক্ষা তার মেসেজের অপেক্ষা। বারবার ফোন হাতে নেওয়া, ‘লাস্ট সিন’ চেক করা, প্রতিটি নোটিফিকেশনে বুক ধড়ফড় করা শুর হয়। শুধু নতুন সম্পর্ক নয়, সিচুয়েশনশিপ বা সম্পর্কের অনিশ্চিত পর্যায়েও এই অভ্যাস এখন খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কারো ‘লাস্ট সিন’ বারবার চেক করার এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিজের আত্মমূল্যবোধের জন্য অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর বেশি নির্ভর করেন, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তখন নিজের ভালো লাগা বা আত্মবিশ্বাস নয়, বরং অপর ব্যক্তি কত দ্রুত উত্তর দিচ্ছেন বা কতটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সেটাই মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ফলে মাথায় একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে- সে কেন রিপ্লাই দিচ্ছে না?’, ‘আমি কি কিছু ভুল বলেছি?’, ‘ও কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে?’এমনকি অনেক সময় মানুষ নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করে। অতিরিক্ত চিন্তার ফাঁদ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অভ্যাস খুব দ্রুত অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিংকিংয়ের রূপ নিতে পারে। আপনি জানেন এই আচরণ আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, তবুও নিজেকে বারবার সেই চ্যাটবক্সে ফিরে যেতে দেখেন। এটি এক ধরনের উদ্বেগের চক্র তৈরি করে, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজের পরিচয় বা মূল্যবোধ তখন অন্যের একটি রিপ্লাইয়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। অনেকেই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ফোন চেক করেন, আবার মাঝরাতেও জেগে উঠে মেসেজ এসেছে কি না দেখেন। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হয়ে যায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে পরদিন ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে মানসিক চাপ আরও বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের ঘাটতি হৃদরোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি কিছু গবেষণায় অপর্যাপ্ত ঘুমকে মস্তিষ্কের অকাল বার্ধক্যের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। সব দেরি মানেই অবহেলা নয় তবে মনোবিজ্ঞানীরা ইতিবাচক দিকটিও মনে করিয়ে দেন। কেউ দেরিতে উত্তর দিচ্ছেন মানেই তিনি আপনাকে অপছন্দ করেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন, এমনটা সবসময় সত্য নয়। তিনি হয়তো ব্যস্ত, ক্লান্ত, মানসিক চাপে আছেন বা নিজের জন্য একটু সময় নিচ্ছেন। কিন্তু যখন কেউ আবেগগতভাবে অনিরাপদ বোধ করেন, তখন তার মন সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাটাই আগে কল্পনা করে নেয়। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তা বেশি বড় হয়ে ওঠে। সুস্থ সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্ক বিশ্বাস, ধৈর্য, যোগাযোগ এবং মানসিক ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, নজরদারির ওপর নয়। যদি কোনো সম্পর্ক আপনাকে সারাক্ষণ উদ্বিগ্ন করে রাখে, ঘুম নষ্ট করে এবং নিজের মূল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে, তাহলে সেটি আপনার জন্য মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর কি না, তা ভেবে দেখা জরুরি।নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি সত্যিই মানুষটিকে মিস করছেন, নাকি শুধু নিজের উদ্বেগ কমানোর জন্য ফোন চেক করছেন? এই উত্তরটাই অনেক সময় আপনার মানসিক অবস্থাকে বুঝতে সাহায্য করবে। মনে রাখতে হবে, একটি রিপ্লাই আপনার মূল্য নির্ধারণ করে না। নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান সবসময় যেকোনো অনিশ্চিত সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ভেরিওয়েল মাইন্ড আরও পড়ুন: কাছের বন্ধু থেকেই কি তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ? স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে পুরুষদের মনে কী চলে? এসএকেওয়াই
Go to News Site