Jagonews24
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি বাগিয়ে নেওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পর জাল শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছে মাউশি। নোটিশের জবাব পেলেই শিগগির এমপিও এবং নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। মাউশি সূত্র জানায়, ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৪৭১ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন জাল শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে ৪৭১ জন জাল বা ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের একটি তালিকা প্রেরণ করা হয়। এ তালিকায় মাধ্যমিকপর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজপর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরিপর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ অনুসারে তালিকাভুক্ত ৪৭১ জন জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য মাউশিকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দেওগাঁও বকুলতলা ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক মো. সাদেকুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত জাল সনদধারীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘এ অবস্থায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক কেন তার এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং গভর্নিং বডি কর্তৃক তার নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’ নোটিশ পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) এ জবাব দাখিল করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ৪৭১ জনের মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। এছাড়া ২২৯ জনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ও ৪৮ জনের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া। এএএইচ/কেএইচকে
Go to News Site