Jagonews24
দেশের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি বাড়িতে ফ্রিজ রয়েছে। ঢালাই বা কংক্রিটের বাড়ি রয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। টেলিভিশনও রয়েছে অর্ধেক বাড়িতে। এছাড়া এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করেন ২ দশমিক ২৮ শতাংশ পরিবার। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স’ রিপোর্টে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দেখা গেছে, মোটরসাইকেল রয়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবারে। অন্যদিকে, সোফা রয়েছে ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ পরিবারে। জরিপের তথ্য বলছে, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার (খানা) ঘর তৈরিতে মাটি, বালি ও কাদা ব্যবহার করেছেন। বাসগৃহের ভোগদখলের অধিকার ও মালিকানার বিষয়টি বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এতে। জরিপে দেখা যায়, ৮০ দশমিক ৯১ শতাংশ নিজস্ব বাসগৃহে বসবাস করেন এবং অন্য কোথাও তাদের বাসগৃহ নেই। সিটি করপোরেশন এলাকায় এক-পঞ্চমাংশ (২০.৬০%) খানার সদস্যরা নিজস্ব বসতঘরে বসবাস করেন। পল্লি অঞ্চলে এ হার ৯১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং পৌরসভা/অন্যান্য শহরাঞ্চলে ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিভাগীয় পর্যায়ের হিসাবে দেখা যায়, রাজশাহী বিভাগের বেশিরভাগ খানার সদস্যরা নিজস্ব বসতঘরে বাস করেন (৯২.৫৫%)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে রংপুর বিভাগ, সেখানে ৯১.৫৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৮৯.২৪ শতাংশ খানার সদস্যরা নিজস্ব মালিকানাধীন বসতবাড়িতে বসবাস করেন। প্রায় ৪ শতাংশ খানা নিজ মালিকানাধীন বাসগৃহে বাস করেন, আবার তাদের অন্য স্থানেও বাসগৃহ রয়েছে। প্রতি ১০টি খানার বিপরীতে একটির বেশি খানা যারা ভাড়াভিত্তিক বাসগৃহে বসবাস করে থাকেন, আবার দেশে অন্য কোথাও তাদের নিজস্ব অন্য বাসগৃহও রয়েছে। আর ভাড়া বাড়িতে অবস্থানকারী ২.৬৩ শতাংশ খানার সদস্যদের অন্য কোথাও নিজস্ব বাসগৃহ নেই। প্রায় ৩.৯২ শতাংশ খানার সদস্যদের বসবাসের জন্য দেশের কোথাও নিজস্ব কোনো বাসগৃহ নেই। তারা সাধারণত ভাড়া বাড়ি বা বিনা ভাড়ায় বসবাস করে থাকেন। নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্যতা যে কোনো সম্প্রদায়ের যে কোনো মানুষের উন্নততর পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে ৪ কারণ বিবেচিত হয়। কারণ নিরাপদ পানির প্রাপ্যতার সঙ্গে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগ, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (এআরআই) ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জরিপ এলাকায় খাবার পানির উৎস হিসেবে নলকূপের (গভীর ও অগভীর) ব্যবহার ২০২২ সালের ৮৬ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৮৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ হয়েছে। পল্লি অঞ্চলে সুপেয় পানির উৎস হিসেবে নলকূপের ব্যবহার হয় ৯৩.৮২ শতাংশ (অগভীর নলকূপ ৩৭.০২% ও গভীর নলকূপ ৫৬.৮০%) খানায়। এর বিপরীতে সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭.১৫ শতাংশ এবং পৌরসভায়/অন্যান্য শহরে ৮১.০৫ শতাংশ খানার খাবার পানির উৎস হিসেবে নলকূপ ব্যবহৃত হয়। বিভাগ পর্যায়ে নলকূপের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভিন্নতা রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে কম হারে নলকূপের (অগভীর) ব্যবহার হয় রাজশাহী বিভাগে ২১.১১ শতাংশ খানায়; সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগের ৮৫.৩২ শতাংশ খানায় এবং সবচেয়ে কম হারে নলকূপের (গভীর) ব্যবহার হয় বরিশাল বিভাগে ৭.৪ শতাংশ খানায়; সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগের ৭৬.৩ শতাংশ খানায়। ট্যাপ কল/পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে শহর ও পল্লি জনপদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান বিদ্যমান। সামগ্রিকভাবে দেশে ১০.৬ শতাংশ খানায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্যাপে সরবরাহকৃত পানি পান করা হয়। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৯.৩ শতাংশ খানায়ই এ প্রক্রিয়ায় পানি সরবরাহ করা হয়। পৌরসভা/অন্যান্য শহরের ১৬.৮ শতাংশ খানায় পাইপলাইনের মাধ্যায়ে পানি সরবরাত করা হয়। বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ৬১ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। এমওএস/এসএনআর
Go to News Site