Somoy TV
৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার পে-অর্ডার জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে খোদ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নড়াইলের কালিয়া থানায় ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শাখা ব্যবস্থাপক। সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এ জালিয়াতিতে এনামুলের সঙ্গে পাশের শাখার আরও এক কর্মকর্তা জড়িত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।সময় সংবাদের হাতে আসা কালিয়া কৃষি ব্যাংক শাখার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা এনামুল কবির তার ডেস্কে বসে ব্যাংকের নথিপত্র ছিঁড়ে নিজের হেফাজতে নেন। মাত্র দুই মিনিট পর ব্যাংকের অন্য একজন তার কক্ষে প্রবেশ করলে তড়িঘড়ি করে ওই নথি নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। পরে ২৪ মিনিট পর আবার নিজ কক্ষে ফিরে আসেন এনামুল কবির। এ ঘটনায় এনামুল কবিরকে অভিযুক্ত করে চলতি মাসের ১৩ তারিখে মামলা করেন নড়াইলের কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল। এজাহারে বলা হয়, ১৫ মার্চ নিজের হেফাজতে থাকা নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের একটি পাতা সরিয়ে ফেলেন এনামুল, পরে তা জালিয়াত চক্রের হাতে তুলে দেন। এজাহার অনুযায়ী, ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে বিআইডব্লিউটিসিতে জমা দেয়া পে-অর্ডারের ওই পাতাটি ব্যবহার করা হয়। পরে বিআইডব্লিউটিসিতে সেটি ভাঙিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলনের সময়ই ধরা পড়ে জালিয়াতির ঘটনা। এরপর কালিয়া শাখাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। আরও পড়ুন: পে-অর্ডার চুরি করে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা, থানায় মামলা কালিয়া কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল জানান, পে-অর্ডার জালিয়াতিতে এনামুলের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভ্যন্তরীণ জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্তে থানায় মামলা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপকের বক্তব্যের সূত্র ধরে সময় সংবাদের অনুসন্ধানে আরও একটি নাম উঠে আসে-এনামুল ঘনিষ্ঠ রকিবুল ইসলাম, যিনি লোহাগড়া শাখা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। অভিযোগ রয়েছে, সরিয়ে ফেলা পে-অর্ডারের পাতার লেখার সঙ্গে তার হাতের লেখার মিল পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লোহাগড়া শাখার ব্যবস্থাপক রকিবুল ইসলাম। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, কালিয়া থানায় ১৩ তারিখে দায়ের করা এ মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়া হয়েছে। পে-অর্ডার জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে দুটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
Go to News Site