Collector
কক্সবাজারে এগোচ্ছে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ, বাড়বে ইন্টারনেট সক্ষমতা | Collector
কক্সবাজারে এগোচ্ছে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ, বাড়বে ইন্টারনেট সক্ষমতা
Somoy TV

কক্সবাজারে এগোচ্ছে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ, বাড়বে ইন্টারনেট সক্ষমতা

দেশের ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট চাহিদা মেটাতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে কক্সবাজারে স্থাপন করা হচ্ছে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৬’। এরই মধ্যে এই প্রকল্পের সাবমেরিন ক্যাবলের ভৌত স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডাটা সেন্টারের যন্ত্রাংশ স্থাপন ও কমিশনিংয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এই ক্যাবলটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর আশা করা হচ্ছে।কক্সবাজার সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান স্টেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম পিইঞ্জ। তিনি বলেন, কক্সবাজার ও কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের বর্তমান সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস। অর্থাৎ এখনো অর্ধেকেরও বেশি সক্ষমতা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এর মধ্যেই কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে বাংলাদেশের অংশের নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৬’ টানার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ। তিনি আরও জানান, আগে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর লক্ষ্য থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। নতুন এই ক্যাবল চালু হলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার জিবিপিএস সক্ষমতা অর্জন করবে। ফলে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস। এতে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হাবে পরিণত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি সাবমেরিন ক্যাবলের গড় আয়ু ২৫ বছর হলেও বিশ্বমানের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কক্সবাজারের প্রথম ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৪’ এখনো ভালো মানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সক্ষম হবে। আরও পড়ুন: সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে চায় সরকার দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেট কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে; এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রিটায়ারমেন্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ‘সি-মি-উই ৬’ চালুর পাশাপাশি আগামী ১৫ বছরের ইন্টারনেট চাহিদা মেটাতে এবং ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই ৭’ স্থাপনের মহাপরিকল্পনা ও প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। নতুন ১৯ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক এই সাবমেরিন ক্যাবলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ইউরোপকে সমুদ্রপথে যুক্ত করবে। এটি সিঙ্গাপুরের তুয়াস ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার হয়ে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে যুক্ত হবে। এরপর কক্সবাজার থেকে এটি ভারতের চেন্নাই ও মুম্বাই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও জিবুতিতে পৌঁছাবে। সেখান থেকে লোহিত সাগর হয়ে ক্যাবলটি মিশরে প্রবেশ করবে। পরে মিশরের স্থলপথ অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরের তলদেশ দিয়ে ফ্রান্সের মার্সেই ল্যান্ডিং স্টেশনে গিয়ে শেষ হবে। এই দীর্ঘ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ডজনখানেকের বেশি দেশের ল্যান্ডিং স্টেশন এই নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং ‘ডিজিটাল অন্ধকার’ বা ব্যান্ডউইডথ সংকটের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের প্রধান সংযোগ সিঙ্গাপুর-চেন্নাই এবং সিঙ্গাপুর-ফ্রান্স রুটে স্থাপিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোনো পরিস্থিতির কারণে দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা নেই। বর্তমানে ‘সি-মি-উই ৪’ ও ‘সি-মি-উই ৫’ অত্যন্ত নিরাপদ ও স্থিতিশীলভাবে পর্যাপ্ত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

Go to News Site