Jagonews24
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৮ মে। এরইমধ্যে রাজধানীতে ঈদের কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো ক্রেতার সংখ্যা কম। রোববার (২৪ মে) সকালে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেলো এখনো জমে উঠেনি বেচাকেনা। জামালপুরের জাকারিয়া ফার্ম থেকে ৮০টা গরু নিয়ে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে এসেছেন হৃদয়। তিনি বলেন, গত বুধবার ৮০টা গরু নিয়ে হাটে এসেছি। আজ পর্যন্ত ২/৩টি গরু বিক্রি করতে পারছি। অল্প-স্বল্প ক্রেতা আছে। তবে অধিকাংশ ক্রেতা ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন। আশা করা যায় কাল থেকে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে। টঙ্গীর সরকার ক্যাটেল ফার্ম থেকে ৪৮টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন মো. খবির হোসেন। তিনি বলেন, আজ দুইদিন হলো গরু নিয়ে ঢাকা এসেছি। দুইদিনে ১টা গরু বিক্রি করতে পারছি। এখনো হাট ভালো করে লাগেনি। ক্রেতা আছে খুব কম। আগামী ২ দিনের মধ্যে ক্রেতা বাড়বে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থকে ৩১টা গরু নিয়ে গাবতলী এসেছেন মো. বরাত আলী সরকার ও তার ভাই। তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই মিলে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ৩১টা গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু বাজারে কাস্টমার নামেনি। সকালেই গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা গরু দেখে দামদরও করেনি। বাড়িতে কোরবানির জন্য গাবতলী পশুর হাটে এসেছেন মেজবাহ। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে গাবতলী হাটে এসেছি গরু কিনতে। ১ লাখ ৬০-৭০ হাজারের মধ্যে গরু কিনবো। তিনি বলেন, গরুর দাম প্রচুর বেশি চাইছে। কেউ কেউ আবার ঠিকঠাক দাম চাচ্ছে। তবে অধিকাংশ বেশি চাওয়ার কারণে যারা কম দাম চাইছিল তারাও এখন বেশি চাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ঘুরছি গরু কেনার জন্য। কিন্তু দাম যেভাবে চাচ্ছে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। যদি কিনতে না পারি তাহলে চলে যাবো। নারায়ণগঞ্জ গিয়ে সেখান থেকে কিনবো। এদিকে, ছাগল বিক্রেতা মো. ফারুক বলেন, আমরা গ্রামের থেকে ছাগল কিনে ঢাকা নিয়ে আসি। এখানে এখন ১২০-১২৫ টার মতো ছাগল আছে। আজ পর্যন্ত ১০-১১ টা ছাগল বিক্রি করেছি। বাজার খুব একটা ভালো না। গতবারের তুলনায় এবার বাজার কম, দাম কম। বাজারে মাঝারি আকারের ছাগলের চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি। নওগাঁ থেকে ১৪০টি ছাগল নিয়ে ঢাকা এসেছেন মালু ব্যাপারী। তিনি বলেন, বেচাকেনা সেভাবে দেখছি না। আজকে মাত্র ১৫টা ছাগল বিক্রি করেছি। কোরবানির ঈদে যেমন বেচাকেনা হয় সেভাবে এখনও শুরু হয়নি। আশা করা যায় কাল থেকে ঈদের বিক্রি শুরু হয়ে যাবে। আর তো সময় নেই। ক্রেতাদের বলা দামের সঙ্গে বিক্রেতাদের বলা দামের সামঞ্জস্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পশু খাবারের দাম অনেক বেড়েছে। যার কারণে ছাগলও বেশি দামে কিনতে হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা এসে যে দাম বলছে সে দামে আমরা ছাগল কিনতেও পারিনি। এই ছাগলটা আমার কিনে আনা ১৭ হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু ক্রেতা এসে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছে। পরে ঘুরে চলে গেছে। এই দামে ছাগল বেচতে পারবো বলেন? কেআর/এসএনআর
Go to News Site