Collector
রফতানি কার্গো নিরাপত্তা সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি, ঢাকায় ইডিডি ও সিলেটে ইডিএস পুনর্বহাল | Collector
রফতানি কার্গো নিরাপত্তা সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি, ঢাকায় ইডিডি ও সিলেটে ইডিএস পুনর্বহাল
Somoy TV

রফতানি কার্গো নিরাপত্তা সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি, ঢাকায় ইডিডি ও সিলেটে ইডিএস পুনর্বহাল

বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে Explosive Detection Dog (EDD) পদ্ধতি ব্যবহার করে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী (UK-bound) রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং পরিচালনার অনুমোদন পুনর্বহাল হয়েছে।রোববার (২৪ মে) বেবিচক থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর ফলে বাংলাদেশের রফতানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে, ফলে রফতানি কার্যক্রমে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং কোনো ধরনের বিলম্ব বা অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষার ঝুঁকি কমবে। একইসঙ্গে এটি সরাসরি কার্গো পরিবহণ সক্ষমতা বাড়িয়ে রফতানিকারকদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় Explosive Detection System (EDS) সচল হওয়ায় রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় EDS চালু হওয়ায় স্ক্রিনিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে এবং রফতানি কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি, বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, যা রফতানিকারকদের জন্য আস্থা ও সুবিধা উভয়ই নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রফতানি কার্গো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও যুক্তরাজ্যে পাঠানোর লক্ষ্যে ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 3rd Country EU Aviation Security Validated Regulated Agent (RA3) Validation অর্জন করে। এর আওতায় রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে EDS, X-ray, ETD এবং EDD—এই চারটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের Department for Transport (DfT) সরাসরি UK-গামী কার্গোর ক্ষেত্রে EDD পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরবর্তীতে বেবিচকের আন্তরিক উদ্যোগ, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয় এবং DfT ও EU-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর জন্য EDD-এর অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন EDS, X-ray ও ETD-এর পাশাপাশি EDD-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত হলো। এতে রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন নতুন এয়ারলাইনস Air Carrier Carrying Air Cargo and Mail from 3rd Country Airport to European Countries (ACC3) Validation অর্জনের মাধ্যমে সরাসরি কার্গো পরিবহণে সক্ষমতা অর্জন করবে। অন্যদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে RA3 Validation অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রফতানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেট বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে EDS, X-ray এবং ETD পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি বেবিচকের উদ্যোগে দ্বিতীয় EDS চালু হওয়ায় বিমানবন্দরটির রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন নতুন এয়ারলাইনস ACC3 Validation অর্জনে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং বিমানবন্দরটির কার্গো পরিচালন সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সিলেট থেকে বৃহৎ পরিসরে সরাসরি রফতানি কার্গো পরিচালনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Go to News Site