Collector
অগ্নিদুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ঘাটতি, গবেষণায় উদ্বেগ | Collector
অগ্নিদুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ঘাটতি, গবেষণায় উদ্বেগ
Somoy TV

অগ্নিদুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ঘাটতি, গবেষণায় উদ্বেগ

বাংলাদেশে অগ্নিদুর্যোগ, ভবনধস ও গণদগ্ধের মতো বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নীতিমালা থাকলেও বাস্তব প্রস্তুতি, জরুরি সেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের অভাবকেই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।রোববার (২৪ মে) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসু। ‘বাংলাদেশে গণদগ্ধ ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত জরুরি অবস্থার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করে সিএমএন অ্যান্ড বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টার, খুলনা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্রুত শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে দেশে অগ্নিদুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার, সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ রোগী পরিবহন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ঢাকা, খুলনা, মোংলা, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে। এতে শিল্পশ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী, ফায়ার সার্ভিস সদস্য, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মোট ৫০৩ জনের ওপর জরিপের পাশাপাশি ১০টি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) এবং ১৯টি কী-ইনফরম্যান্ট ইন্টারভিউ (কেআইআই) পরিচালনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ নেননি। ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ দগ্ধ রোগী পরিবহনের সময় কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। অনেকের মধ্যে এখনো দগ্ধ স্থানে টুথপেস্ট, তেল বা বরফ ব্যবহারের মতো ভুল চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে, যা রোগীর ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। আরও পড়ুন: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ, ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের পরামর্শ এছাড়া শ্বাসনালি দগ্ধতা প্রতিরোধ, আগুনে পোড়া ব্যক্তির পোশাক নিরাপদে অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রোগী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও অধিকাংশ মানুষের জ্ঞান সীমিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গণদগ্ধ ও বহুমাত্রিক আঘাতজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কমিউনিটি পর্যায়ের প্রস্তুতি ও সামাজিক সক্ষমতায়। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সীমিত সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব, বিশেষায়িত বার্ন ও ট্রমা সেবার সংকট এবং অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব এবং দায়িত্ব বণ্টনের অস্পষ্টতার কারণে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হটলাইন ১০২ সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষণার ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিভিত্তিক পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার হাইড্র্যান্ট স্থাপন, জরুরি যান চলাচলের জন্য গ্রিন করিডর চালু, নিয়মিত ফায়ার ড্রিল ও ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ এবং যুব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সুপারিশ করেন গবেষকরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় সরকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সমন্বিত ‘সিবিপিডিপিইআর’ (CBPDPER) মডেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

Go to News Site