Jagonews24
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত ঘটনায় করা মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে মোট ১৫ জনকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন। শুনানি শেষে আদালত তা গ্রহণ করেন এবং মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেলেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেন। অভিযোগ আনা হয়েছে ৩টি ধারায় ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে জানান, মামলাটি পল্লবী থানায় গত ২০ মে করা হয়। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় ধর্ষণের পর মৃত্যু ঘটানোর অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। ৩০ ধারায় মূল অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা বা সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ আছে। এছাড়া, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন, নষ্ট বা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। আরও পড়ুনরামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার চায় রাষ্ট্রপক্ষরামিসা হত্যা: আদালতে দিনভর তৎপরতা, দ্রুত বিচারের পথে মামলা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার পাশাপাশি আলামত নষ্ট ও গোপনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ও সাক্ষী যারা অভিযোগপত্রে প্রধান দুই আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী মোছা. স্বপ্না খাতুনকে (২৬)। মামলার বাদী হিসেবে রয়েছেন নিহত শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলার অন্য এক তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার মো. ইসহাক আলী সাক্ষ্য তালিকা প্রস্তুত করেন। এতে দেখা গেছে, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন শেখ আবু সামা, মো. মনির হোসেন, রাইসা আক্তার ও মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম ওরফে রাজু। সুরতহাল, জব্দ তালিকা ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে মো. মিজানুর রহমান লিটন, মাহমুদা খাতুন, মনিরুজ্জামান শাহীন, পারভীন আক্তার, এসআই রাশেদুল ইসলাম, রুমা আক্তার ও কনস্টেবল মো. শরিফ মিয়াকে। মামলার বাদী, আসামি ও সাক্ষীদের তালিকা/ছবি: সংগৃহীত এছাড়া, প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে আছেন এসআই মো. ইকবাল হোসেন, তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইসহাক আলী ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ শুভজয় বৈদ্য। তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ডিএনএ বিশ্লেষণ তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) সিআইডি থেকে এসব প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মামলায় ডিএনএ বিশেষজ্ঞের মতামত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। আরও পড়ুনরামিসা হত্যা: সোহেলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগরামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন বাদী-বিবাদীপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ আলোচিত এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ নিয়োগ পেয়েছেন। আজিজুর রহমান দুলু জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। আদালত তা গ্রহণ করেছেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।’ মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে নিজেদের পাশের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে প্রতিবেশী সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। এমডিএএ/একিউএফ
Go to News Site