Jagonews24
কোরবানির পশুর হাটে আগুন লেগেছে খবর শুনে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে কাজলা-শনির আখড়ায় আসেন ব্যাপারি মজনু। একইভাবে, কাঁচপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে হাটে আসেন মাহবুবুর রহমান। এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি তারা। তাদের অভিযোগ দাম কম বলছেন ক্রেতারা। তাই বিক্রি না করে অপেক্ষা করছেন তারা। কাচঁপুর থেকে আসা মাহবুবুর রহমান চারটির মধ্যে একটি কালো রংয়ের ষাঁড় দেখিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই ষাঁড় কিনেছি এক লাখ ১০ হাজার টাকায়। এখন দাম বলে ৭০ হাজার টাকা। পাশে কালো রংয়ের দুটো ষাঁড় দেখিয়ে বলেন, গতকাল এই দুটো ৭৫ হাজার করে দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল একজন ক্রেতা। কিন্তু বিক্রি করিনি আজকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠছে। বেশি দামের কথা শুনে বাজারে এসে এখন মনে হচ্ছে ভোগান্তিতে পড়েছি। বাড়ি থেকে বউ ফোন দিচ্ছে গরু নিয়ে ফিরে আসো। তবে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখবো বিক্রি করা যায় কি না।’ বুধবার (২৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রাজধানীর কাজলা ও শনির আখড়া কোরবানির পশুহাট ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। হাটে এখনো পশুর সরবরাহে ঘাটতি নেই, কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দামের ব্যবধান যেন আকাশ পাতাল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাদা-পানির দুর্ভোগ,,যানবাহনের হর্ণ। ফলে কোরবানির উৎসবের আবহের পাশাপাশি বাড়ছে অস্বস্তিও। সাতটি ষাঁড় নিয়ে আসা মজনু একটি বড় সাইজের লাল ষাঁড় দেখিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, এটা কিনে এনেছি এক লাখ ৫২ হাজার টাকায়। এখানে দাম বলছে এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা। গতকাল বিকেলে ঢাকায় গরুর বাজারে আগুন। বিশেষ করে কাজলা-শনির আখড়া বাজারে গরুর দাম বেশি এমন তথ্য জানানোর পর স্থানীয় বাজার কাপাসিয়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে এখানে বেঁধে রেখেছি। গরু আনতে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার টাকা। আমরা তিনজন মানুষ এসেছি খাওয়া-দাওয়া সব মিলে খরচ বাড়ছে। কিন্তু গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। আরও একটি ষাঁড় দেখিয়ে বলেন, এটার দাম এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রতি গরুতে ১৫ ২০-২৫ হাজার টাকা কম দাম বলছে। দাম যেহেতু কম সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো বিক্রি করবো না। কারণ গরুর বয়স কম এসব গরু আরও বড় হবে দামও বাড়বে। একই সঙ্গে কাপাসিয়া থেকে আসা রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চারটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছিলাম। তিনটি কেনা আর নিজের গোয়ালের একটি। গোয়ালের গরুর দাম নিয়ে কোনো চিন্তা নেই তাই এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু বাকি তিনটি গরুতে কম দাম বলছে তাই বিক্রি করার সাহস পাচ্ছি না। এফএইচ/এসএনআর
Go to News Site