Jagonews24
বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (আইপিএস ও জেনারেটর) বিকল থাকায় শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। শনিবার (৬ জুন) দিনগত রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সচল রাখা হয়। মধ্যরাতে এ চরম অব্যবস্থাপনার তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিনের হস্তক্ষেপে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার বাইরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের অনেকে মেঝেতেও অবস্থান করছেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাথরুমে পানি না থাকায় এবং তীব্র গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোকসানা আক্তার নামে এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় কয়েকবার নার্সদের ডেকেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তারা আসেননি। একজন নারীর পক্ষে এ অন্ধকারে বাথরুমে বা বাইরে যাওয়া মোটেও নিরাপদ ছিল না। জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সাগর সাহা জানান, দীর্ঘ সময় ভোল্টেজ সংকটের কারণে ওপরের ওয়ার্ডগুলোতে আলো জ্বলছিল না, ফলে বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বেলে জরুরি বিভাগের রোগীদের সাপোর্ট দিতে হয়েছে। হাসপাতালের এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও বিকল্প ব্যবস্থা সচল না থাকার বিষয়ে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চরম চটে যান। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটা লোডশেডিংয়ের কারণে হয়েছে। আমাদের আইপিএস ও জেনারেটর দুটোই নষ্ট।’ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অফিস টাইমে যোগাযোগ করবেন’। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন তিনি। অন্যদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি আমার জানাই ছিল না। জেনারেটর ঠিক আছে কি না তাও আমি নিশ্চিত নই। শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, হাসপাতালের নিজস্ব লাইনের ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানানোর পর দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের খবর পেয়েই আমি সিভিল সার্জন ও পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। হাসপাতালের নষ্ট জেনারেটর ও আইপিএস দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে রোগীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম
Go to News Site