Jagonews24
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠেছে। পরে জায়গাটিতে মাটি খোঁড়া হলে সেখান থেকে ধোঁয়া ওঠা শুরু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। পরে শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাপের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’ গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকেও তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, ‘রহস্যজনক এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান করা হবে।’ বিধান মজুমদার অনি/এফএ/জেআইএম
Go to News Site