Collector
Giriş Yap
কখন চা পান করলে কী উপকার পাওয়া যায় | Collector
কখন চা পান করলে কী উপকার পাওয়া যায়

কখন চা পান করলে কী উপকার পাওয়া যায়

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সকালবেলার ঘুমভাঙা মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিকেলের ক্লান্ত সময়-এক কাপ চা যেন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। আড্ডা, কাজের ফাঁক কিংবা একান্ত অবসরের সঙ্গী হিসেবেও চায়ের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। অনেকেই মনে করেন, সারাদিন কাজ করার শক্তি ও সতেজতা তারা এক কাপ চা থেকেই পান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, চা থেকে কতটা উপকার পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে কখন, কী ধরনের এবং কতটা চা পান করা হচ্ছে তার ওপর। দিনের শুরুতে চা যে কারণে ভালো লাগে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে সচল করতে অনেকেই চায়ের ওপর নির্ভর করেন। এক কাপ হালকা চা শরীর ও মনকে দ্রুত সজাগ করে তুলতে সাহায্য করে। চায়ে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে, ফলে একাগ্রতা বাড়ে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ তৈরি হয়। এছাড়া সকালে পরিমিত চা পান করলে মেটাবলিজম সক্রিয় হতে পারে, যা হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি ক্ষুধা উদ্রেক করতেও সাহায্য করে, ফলে সকালের নাস্তা খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। তবে খালি পেটে অতিরিক্ত কড়া চা পান করা ঠিক নয়। এতে অম্লতা, গ্যাস্ট্রিক বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিকেলের চা কেন এত জনপ্রিয়? সারাদিনের কাজের চাপের পর বিকেলের দিকে শরীরে ক্লান্তি ভর করা খুবই স্বাভাবিক। এই সময় এক কাপ চা শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে তুলতে পারে। চায়ের উষ্ণতা এবং হালকা ক্যাফেইন অলসভাব কাটিয়ে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। অনেকেই লক্ষ্য করেন, বিকেলে এক কাপ চা পান করলে মাথা ভার লাগা বা কাজের ক্লান্তি কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ ও বিরক্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে শান্ত পরিবেশে ধীরে ধীরে চা পান করলে তা এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। ফলে সন্ধ্যার বাকি সময়টুকু আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটানো যায়। কোন চা সবচেয়ে উপকারী? সব ধরনের চা সমান উপকারী নয়। দুধ-চা অনেকের প্রিয় হলেও অতিরিক্ত দুধ ও চিনি মেশানো চা নিয়মিত পান করলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা হালকা ও কম প্রক্রিয়াজাত চা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সকালে আদা-চা বা লেবু-চা পান করলে হজম ভালো হতে পারে এবং শরীর সতেজ অনুভূত হয়। গ্রিন টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের কোষকে সুরক্ষা দিতে এবং মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। সাধারণ লিকার চা দ্রুত শক্তি ও সতেজতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর হতে পারে। পেপারমিন্ট টি পেটের ভারভাব ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। তুলসি চা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে ক্যামোমাইল টি দিনের শেষে মনকে শান্ত করতে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পরিচিত। চা পানের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন চা উপকারী হলেও অতিরিক্ত চা পান শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনে কয়েক কাপের বেশি চা পান না করাই ভালো। এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে চা পান করার অভ্যাসও কমানো উচিত। চায়ের প্রকৃত উপকার পেতে হলে পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে চা পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চা শুধু একটি পানীয় নয়, অনেকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উপকার পেতে হলে সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের চা বেছে নিতে হবে। সকালে এক কাপ হালকা চা দিনকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য আরও পড়ুন:সুস্থ পরিপাকতন্ত্র ছাড়া সুস্থ জীবন অসম্ভব বেশি মাংস খেয়ে বদহজম? জেনে নিন দ্রুত সমাধান  এসএকেওয়াই

Go to News Site