Jagonews24
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার রায় হয়েছে। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত বলেছেন, এই মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণার সময় এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। বিচারক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এ ট্রাইব্যুনালের অধীনে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে শিশুদের অসহনীয় যন্ত্রণা, পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষারত মানুষের প্রত্যাশা। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, এ মামলায় তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা অতি স্বল্প সময়ে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং প্রসিকিউশনও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব প্রশংসার দাবিদার উল্লেখ করে আদালত বলেন, এই মামলার মতো দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত। আদালত আরও বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণ, বিশেষ করে ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার শুধু আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষী এবং বিচার ব্যবস্থার সক অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। তিনি বলেন, আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয় বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেই আদালত এ রায় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এর আগে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে আসামি স্বপ্না আক্তার এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সোহেল ও ১০টা ৫৫ মিনিটে স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। এরপর বেলা ১১ টায় রায় পড়া শুরু হয়। ১১টা ৪১ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন আদালত। এমডিএএ/এসএনআর
Go to News Site