Collector
Giriş Yap
৯০ শতাংশ মানসিক রোগীই চিকিৎসার বাইরে | Collector
৯০ শতাংশ মানসিক রোগীই চিকিৎসার বাইরে

৯০ শতাংশ মানসিক রোগীই চিকিৎসার বাইরে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছেন। জনবলের ভয়াবহ সংকট এবং পুরোনো শিক্ষাক্রমকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে ‘বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নাগরিক অধিকার ও কাঠামোগত সংস্কার’ শীর্ষক এক জাতীয় পরামর্শসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস.এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। আরও পড়ুন ‘পরিচয়হীন’ মানসিক রোগীর ঠাঁই হয়নি কোনো হাসপাতালে, পথেই হলো ঠিকানা সম্প্রতি মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালির মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের করণীয় নির্ধারণে এই সভাটির আয়োজন করে ‘ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন’। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে আয়োজিত জাতীয় পরামর্শসভা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ৩০৫ জন এবং সাইকোলজিস্টের সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন। এই অপর্যাপ্ত জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সভায় নীতিনির্ধারকরা মেডিকেল শিক্ষাক্রম এবং নার্সিং কারিকুলাম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যেন সাধারণ চিকিৎসকরাও প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের তাগিদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস.এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর না করে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করা গেলে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি সম্ভব।’ দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় এবং দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও অত্যন্ত অপ্রতুল। শিক্ষাব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, স্কুলগুলোতে শিশুদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া পারিবারিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী না করা গেলে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে। সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা, সংকট ও উত্তরণের উপায়গুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন। এসইউজে/এসএইচএস

Go to News Site