Collector
Giriş Yap
নোয়াখালীর সুধারাম থানার ওসি প্রত্যাহার | Collector
নোয়াখালীর সুধারাম থানার ওসি প্রত্যাহার

নোয়াখালীর সুধারাম থানার ওসি প্রত্যাহার

নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হামলা-সংঘর্ষ এবং ছাত্রলীগের মিছিলের পর সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহারের পর সুধারাম থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে। তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি ছিলেন। মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এর আগেও সুধারাম থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে সোনাগাজী থানায় বদলি করা হয়েছিল। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকেও হাতিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পদায়ন করা হয়েছে হাতিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা ইদ্রিসুর রহমানকে। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বদলির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ কিংবা বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে ওসি পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। জেলা পুলিশ সুপার প্রয়োজন অনুযায়ী এক থানা থেকে অন্য থানায় ওসি বদলি করতে পারেন। এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। ওই মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার (৬ জুন) বিকেলে একই বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং জামায়াতের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যে যার মতো বাঁধেরহাট বাজার ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল শেষে খবর পান পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহসহ একদল আওয়ামী লীগের সমর্থক ওই ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লাকিয়া গ্রামের দলীয় অফিস ঘরে বসে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই খবর পাওয়ার পর ছাত্রদলের একদল কর্মী ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়ির পাশের ওই অফিস ঘরের সামনে যান। এ সময় উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় শ্রমিক দলের নেতা মো. হৃদয়ের মাথা ফেটে যায়। এ সময় আহত হন চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহও। আহত হন দুই পক্ষের আরও সাত থেকে আট কর্মী। পাল্টাপাল্টি হামলা চলাকালে আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীদের কমপক্ষে পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে আগুন দেয়। এতে ছাত্রদলের ৬ জন আহত হয়। এদিকে দলীয় কর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার খবরে সন্ধ্যায় ওই এলাকায় যান বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় বিএনপির কর্মীরা চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালান। পরে সুধারাম থানার পুলিশ ও নোয়াখালী ক্যাম্প থেকে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ইকবাল হোসেন মজনু/এএইচ/এমএস

Go to News Site