Collector
Giriş Yap
কমছে তিতাসের গ্যাস উৎপাদন, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা! | Collector
কমছে তিতাসের গ্যাস উৎপাদন, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা!

কমছে তিতাসের গ্যাস উৎপাদন, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা!

দিন দিন কমছে দেশের অন্যতম বড় ও প্রাচীন গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের উৎপাদন। বিষয়টিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, উৎপাদন ধরে রাখতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের কাজ জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু তিতাস নয়, দেশের সব সম্ভাবনাময় এলাকাতেই গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্র দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্যাসক্ষেত্র। প্রায় ছয় দশক ধরে এটি বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। বিবিয়ানা ছাড়া দেশের অন্য কোনো গ্যাসক্ষেত্র দৈনিক উৎপাদনের দিক থেকে তিতাসের ধারেকাছেও নেই। তবে জ্বালানি খাতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কোনো নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য উৎস তিতাসের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে। পাঁচ বছর আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এরই মধ্যে তিতাসের উত্তোলনযোগ্য মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বিবিয়ানার পর দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়া যায় তিতাস থেকে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়া জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক বলেন, অবশ্যই এটি উদ্বেগের বিষয়। শুধু তিতাস নয়, বিবিয়ানা থেকেও উৎপাদন কমছে। অথচ দেশের গ্যাসের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এতদিন ধরে আমরা এই ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছি। একটি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস একসময় শেষ হবেই। এ জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই প্রস্তুতির ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট: গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থলভাগে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করা হচ্ছে তিতাস-৩১ নম্বর কূপে। এখানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন নতুন কূপ খননের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আমরা এখন গভীর স্তরে অনুসন্ধান করছি। পাশাপাশি তিতাস-২৮, তিতাস-২৯ ও তিতাস-৩০ নম্বর কূপ খননের কাজ চলছে। এগুলো সফল হলে উৎপাদন আরও বাড়বে এবং আমরা কিছুটা স্বস্তির জায়গায় যেতে পারব। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান মজুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আরও জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এখনও আমাদের আশা আছে যে দেশীয় উৎস থেকে আরও বেশি গ্যাস পাওয়া সম্ভব। এতে আমরা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়া থেকে রক্ষা পাব। মর্তুজা আহমদ ফারুক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুধু গ্যাস ব্যবহার করে যাচ্ছি, কিন্তু নতুন মজুত তেমন যোগ হচ্ছে না। বাপেক্স গত ১০ বছরে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলোর বেশিরভাগই ছোট। তাই গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও চার বছর আগে থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।

Go to News Site