Jagonews24
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের আবেদন ফি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন দেশটির একজন ফেডারেল বিচারক। আদালত বলেছেন, এই ফি মূলত একটি কর, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের প্রশাসন আরোপ করতে পারে না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও টি. সোরোকিন সোমবার (৮ জুন) দেওয়া রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রশাসন যে এটিকে ‘নিয়ন্ত্রক ফি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে, তার পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি বা গ্রহণযোগ্য যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, নীতিটি দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন করা হয়েছিল ও এ বিষয়ে জনমত নেওয়া বা আনুষ্ঠানিক পরামর্শের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অথচ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আর্থিক খাতসহ বহু শিল্পক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের বদলে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রশাসনের মতে, ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ বেতনের পদে আরও বেশি মার্কিন নাগরিক নিয়োগে উৎসাহিত হবে। বর্তমানে প্রতি বছর লটারির মাধ্যমে প্রায় ৮৫ হাজার নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। প্রযুক্তি কোম্পানি, ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই ভিসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সতর্ক করেছিল যে নতুন ফি কার্যকর হলে ছোট ব্যবসা ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর জন্য বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই নীতির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে ২০টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট মামলা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এই ফি শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীর সংকট আরও বাড়িয়ে দেবে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস রায়ের পর এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার এইচ-১বি ভিসাধারী চিকিৎসক, শিক্ষক ও দক্ষ কর্মী নিউইয়র্কবাসীকে সেবা দিচ্ছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা থামিয়ে দিয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ কয়েক মাস আগে অন্য একটি মামলায় ওয়াশিংটনের এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। সে সময় আদালত বলেছিলেন, অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। সোমবারের রায়ে বিচারক সোরোকিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক মামলায় স্পষ্ট করেছে যে কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো কর বা আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারেন না। বিশ্লেষকদের মতে, এইচ-১বি ভিসা ফি বৃদ্ধি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সীমিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বিশেষ করে, উচ্চশিক্ষিত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও স্থায়ী হওয়ার পথ কঠিন করে তোলাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউজ এরই মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে মনে হলে বিদেশিদের কোনো শ্রেণির প্রবেশ সীমিত করার স্পষ্ট আইনি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। প্রশাসন আপিলে এই রায় বাতিল হবে বলে আত্মবিশ্বাসী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রায়ের ফলে আপাতত প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা খাতের হাজারো নিয়োগদাতা ও বিদেশি দক্ষ কর্মী স্বস্তি পেলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট এসএএইচ
Go to News Site