Collector
Giriş Yap
হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীর গর্ভপাতের অভিযোগ | Collector
হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীর গর্ভপাতের অভিযোগ

হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীর গর্ভপাতের অভিযোগ

পিরোজপুরে ধর্ষণ মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী আফসানার (১৮) স্বামী মো. আলী আকবর (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আফসানা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী চান মিয়া, রওসনা আরা, রুমানা ও শিমুলসহ ৬-৭ জন মিলে আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। এসময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অন্তঃসত্ত্বা আফসানার ওপরও হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আফসানার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত অনিকের শ্বশুর আব্দুল জব্বারের নামে ২০১৪ সালের নভেম্বরে পাঁচ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ওই ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, মারধরের খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় অনিক ও কাওসার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় আমার মেয়ে আমাকে মুঠোফোনে জানালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও কোনো সহায়তা পাইনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নেছারাবাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আলী আকবরকে গত তিনদিন চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আফসানার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শহিদুল ইসলামের দাবি, হামলাকারীদের নির্যাতনের কারণেই তার মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে আলী আকবর কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও আফসানার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে দুই পক্ষের কেউ আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। অনিক বলেন, ‘আমি কাউকে মারিনি। বরং তারা আমার বাবা-মাকে মারধর করেছে।’ একইভাবে আফসানা ও আলী আকবরকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চান মিয়া ও রওসন আরা। এ বিষয়ে জানতে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবা শহিদুল ইসলাম একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছিলেন। তখন গর্ভপাতের বিষয়টি জানানো হয়নি। চিকিৎসকের সনদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র নিয়ে এলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের করা ডায়রিটি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ নেছারাবাদ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘হামলার শিকার হয়ে গত ৪ জুন বিকেলে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিল। পরে ৬ জুন বিকেলে হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রেফার্ড করা হয়েছে।’ মো. তরিকুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম

Go to News Site