Jagonews24
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিজের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্লাঞ্চকে (Todd Blanche) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৮ জুন) হোয়াইট হাউজ জানায়, ট্রাম্প ব্লাঞ্চের নাম অনুমোদনের জন্য মার্কিন সিনেটে পাঠিয়েছেন। কয়েক দিন আগে তিনি এ মনোনয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত এপ্রিল থেকে ব্লাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মনোনয়নটি এখন মার্কিন সিনেটে বিবেচনার জন্য যাবে। সেখানে রিপাবলিকানদের পূর্ণ সমর্থন তিনি পান কি না, সেটিই আগামী দিনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। এই মনোনয়নকে ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন উদ্যোগে সমর্থন দিলেও এখন সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা কিছু বিষয়ে হোয়াইট হাউজের অবস্থানের বিরোধিতা করতে শুরু করেছেন। ৫৩-৪৭ আসনের সংকীর্ণ ব্যবধানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটে অনুমোদন পেতে ব্লাঞ্চের প্রায় সর্বসম্মত রিপাবলিকান সমর্থন প্রয়োজন হবে। ব্লাঞ্চের মনোনয়নকে তার প্রতি ট্রাম্পের আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিচার বিভাগ একটি পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়, যার আওতায় ট্রাম্প যাকে সরকারের ‘অস্ত্রায়ন’ বলে বর্ণনা করেছেন, তার শিকার ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা ছিল। পরিকল্পনাটি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা দেখা দেয় এবং এর বড় অংশের সমালোচনা সরাসরি ব্লাঞ্চকে ঘিরেই ছিল। বিশেষ করে রিপাবলিকান সিনেটররাই ওই তহবিলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নেন। তারা ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দের ভোট আটকে দেন, যতক্ষণ না ব্লাঞ্চ ওই তহবিল বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন। সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী রিপাবলিকান সদস্য, নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর থম টিলিস এর আগেও ব্লাঞ্চের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে ‘ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল ও সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে ঘিরে একটি ফৌজদারি মামলার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ট্রাম্প ব্লাঞ্চের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলার গতি বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে জেমস কোমির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র নিশ্চিত করা এবং প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার’- এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়ও রয়েছে। মনোনয়নের পর সিনেট বিচারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি ব্লাঞ্চের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ব্লাঞ্চ স্বচ্ছতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি তার সমর্থন রয়েছে। গ্রাসলির ভাষায়, ব্লাঞ্চ অত্যন্ত যোগ্য ও তিনি দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজের অঙ্গীকার দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য, ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এই মনোনয়নের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। টড ব্লাঞ্চ যেন তা খেয়ালই করেননি। ট্রাম্পের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ব্লাঞ্চ ৫১ বছর বয়সী টড ব্লাঞ্চ গত এপ্রিল মাসে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ট্রাম্প তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেন। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও হোয়াইট হাউজের কথিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পাম বন্ডির প্রধান ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্লাঞ্চ এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে তিনটিতে তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, বিচার বিভাগের প্রধান দায়িত্বে থেকেও ব্লাঞ্চ এখনো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর মতো আচরণ করছেন। অথচ বিচার বিভাগের দায়িত্ব হওয়া উচিত রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ব্লাঞ্চ এমন একটি বিস্তৃত চুক্তিতেও অনুমোদন দিয়েছেন, যার ফলে কর কর্তৃপক্ষ ট্রাম্প, তার পরিবারের সদস্য ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অতীতের কর-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিরীক্ষা করতে পারবে না। এছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতীতের তদন্তগুলো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল কি না, তা নিয়ে চলমান ফৌজদারি তদন্তকেও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স এসএএইচ
Go to News Site