Jagonews24
বিজেপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে ‘ওপারে’ অর্থাৎ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’- এ আটক ৮৬৩ জনের নথি যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমাবার (৮ জুন) কলকাতায় বিজেপির একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে এসব তথ্য দেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন হয়েছে মাত্র এক মাস। এরপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে তৈরি করা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সরকারের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের সেই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে। কতজনকে ওপারে পাঠানো হয়েছে ও কতজন এখনো হোল্ডিং স্টেশনে আটক আছেন- তা নিয়ে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি তথ্য দেওয়া হলো। তাও আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই তথ্য দিলেন। বিজেপির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে সব থেকে বড় বিষয় ছিল সীমান্ত সুরক্ষা। তার মধ্যে অগ্রাধিকার ছিল উত্তরবঙ্গের ‘চিকেন নেক’ এলাকা। আমরা বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। প্রত্যেক দিনই জমি দিচ্ছি। এরই মধ্যে ১০০ কিলোমিটারের মতো জমি হস্তান্তর করেছি। আরও দিতে হবে ৫৫৬ কিলোমিটার। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, যারা সিএএ’র আওতায় পড়েননি, তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ডিপোর্ট করার কাজ নিয়ম মেনে শুরু করেছি। ভারত সরকারের একটি আইন ছিল, যেখানে অনুপ্রবেশকারীদের জেলে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের বিধান ছিল। অন্য রাজ্যেএই আইন কার্যকর করা হলেও, এই রাজ্যে তাদেরকে জামাই আদর করে জেলে পাঠানো হতো। আমাদের ভাত, কাপড়, ঔষধ পেতেন তারা, আরামে ভেতরে বসে থাকতেন। তার কথায়, এবার হোল্ডিং স্টেশন বানানো হয়েছে সীমান্তের জেলাগুলোতে। সেখান থেকে এখনো পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে ওপার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, হোল্ডিং স্টেশনে আছেন ৮৩৬ জন। তাদেরকেও আমরা তাড়াতাড়ি খাইয়ে-পড়িয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এই প্রক্রিয়া চলবে, এটা একটি বড় ইস্যু ছিল। শুভেন্দু অধিকারী এও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় অগ্রাধিকার না দিলে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে না। বাংলাতে অনেক আগেই ভৌগোলিক চিত্র পরিবর্তন হয়ে গেছে, সেটা আপনার অনেকেই জানেন। ডিডি/এসএএইচ
Go to News Site