Somoy TV
দিনাজপুরের হিলির বিভিন্ন এলাকার লিচু বাগানে এখন গাছে গাছে লাল টকটকে লিচুর সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা পাকা লিচু। স্থানীয় বাজারেও এরই মধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে লিচু বিক্রি।সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাদ্রাজি, বোম্বাই ও বেদানা জাতের লিচুতে ছেয়ে গেছে বাজার। রসালো ও মিষ্টি স্বাদের কারণে এ অঞ্চলের লিচুর সুনাম দেশজুড়ে থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারদের আনাগোনাও বেড়েছে। হিলির লিচু চাষি ও বাগান মালিক লিয়াকত আলী জানান, চলতি বছর ফলন নিয়ে শুরুতে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় লিচুর আকার ভালো হয়েছে এবং পোকার আক্রমণও ছিল কম। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে শুরু থেকেই লিচুর ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাইকাররা বাগান থেকেই লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন বাগান মালিকরা। আরও পড়ুন: কত বছরের শিশু দিনে কয়টি লিচু খেতে পারবে? স্থানীয় ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে সব ধরনের লিচুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাগানে চায়না থ্রি লিচুর প্রতি ১০০টি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাদ্রাজি লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং বোম্বাই লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হওয়া এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে লিচু চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, হিলিতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সময়মতো সঠিক পরিচর্যার কারণে বাগানগুলোর লিচুর রঙ ও আকার হয়েছে আকর্ষণীয়। বাজারে ব্যাপক চাহিদা এবং কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় স্থানীয় লিচু চাষি ও বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলে লিচু চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোকার আক্রমণ থেকে লিচু রক্ষা এবং ফলন বাড়াতে সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শও দেয়া হয়েছিল। চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ১৪ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে।
Go to News Site