Somoy TV
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই ভারত থেকে পুশইনের ঘটনা ঘটছে এবং এটি বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চাপে রাখার কৌশল নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে ভারত থেকে পুশইন বা পুশব্যাক ইস্যুসহ তিস্তা ব্যারেজ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তথ্য উপদেষ্টা।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুশব্যাক নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার এসেছে, তাদের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল যে অবৈধ বাংলাদেশি থাকলে তাদেরকে পুশব্যাক করা হবে। বাংলাদেশকে তারা চাপে রাখতে চাইছেন–বিষয়টি সেরকম নয়। তবে শিগগিরই দুদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে।’তিনি বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে পুশইন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকার কারণে, তাদের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এটি হচ্ছে। তবে এটি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এর সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টাব্রিফিংয়ে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যার বিকল্প সমাধানের বিষয়ে এক বড় পরিকল্পনার কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প হাতে নেবে সরকার। ভারত থেকে বর্ষা মৌসুমে আসা পানি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।তিনি জানান, তিস্তা এলাকায় যদি এই ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার (জলাধার) নির্মাণ করা হয়, তবে তাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ খরচ বাংলাদেশ সরকার নিজেই বহন করতে সক্ষম। তবে এই মেগা প্রকল্পে যদি অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সাহায্য করতে চায়, তবে সেই সুযোগও খোলা রাখা হবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। যে কেউ ব্যক্তিগত পরিচয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের বাধা দেবে না।তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সে কারণে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিলে কারো ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।’
Go to News Site