Somoy TV
ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বেন স্টোকসের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত সোমবার (৮ জুন) ভোরে একটি নাইটক্লাবে ঘটে যাওয়া এক অপ্রকাশ্য ঘটনার জেরে স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে তদন্তের আওতায় এনেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানের জয় উদ্যাপনের পরই এই ঘটনা ঘটে। ইসিবি একে 'দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন' হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে স্টোকস নিজেও অধিনায়কের পদে থাকা নিয়ে ভাবছেন।সোমবার রাতে ইসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি ইতোমধ্যে ক্রিকেট রেগুলেটরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের ১৭ জুন থেকে ওভালে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।জানা গেছে, ঘটনায় কেউ আহত হননি। তবে বিষয়টি সারাসেন্স রাগবি ক্লাবের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে, যারা মৌসুম-শেষের উদ্যাপনে ওই নাইটক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। মূলত অ্যাটকিনসন ও সারাসেন্সের এক একাডেমি খেলোয়াড়ের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।ইসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, 'নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পুরুষদের প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার পর দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি ঘটনা তদন্ত করছে ইসিবি। সোমবার ভোরে একটি নাইটক্লাবে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সময় বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছি এবং দ্বিতীয় টেস্টের দল নিয়ে যথাসময়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। ক্রিকেট রেগুলেটরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং সুযোগ হলে আমরা আরও আপডেট দেব।'আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরলেন ওগিসপরবর্তীতে সারাসেন্সও নিশ্চিত করেছে যে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক একাডেমি খেলোয়াড় রোববার (৭ জুন) রাতে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন।এই ঘটনা ইসিবির জন্য অস্বস্তিকর, কারণ গত শীতে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর দল ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য মধ্যরাতের কারফিউ চালু করা হয়েছিল।অস্ট্রেলিয়া সফরে হ্যারি ব্রুক এক বাউন্সারকে ঘিরে রাতের ঘটনার কারণে জরিমানা ও তিরস্কারের শিকার হন। একই ঘটনায় জ্যাকব বেথেলকেও সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়া বেন ডাকেটকে নুসায় সিরিজের মাঝপথের বিরতিতে মাতাল অবস্থায় দেখা যাওয়ার ভিডিওও বিতর্ক তৈরি করেছিল।স্টোকস যদি তদন্ত চলাকালে দল থেকে বাদ পড়েন, তাহলে সাধারণ নিয়মে সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকই দ্বিতীয় টেস্টে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা।স্টোকস গত বছর জানিয়েছিলেন যে তিনি মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন। তবে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সতীর্থদের সঙ্গে 'একটা আসল বিয়ার' ভাগ করে নিতে তিনি মুখিয়ে আছেন।তিনি বলেন, 'এই ম্যাচের ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং হারলে বাইরে থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া আসত, সেটা আমি জানতাম। এখন আমরা জিতেছি। তবে ড্রেসিংরুমে গিয়ে ছেলেদের সঙ্গে একটা ভালো বিয়ার না খাওয়া পর্যন্ত আমি পুরোপুরি স্বস্তি পাব না।'স্টোকসের ক্যারিয়ারেও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৭ সালে ব্রিস্টলে একটি ওয়ানডের পর গভীর রাতে রাস্তার মারামারিতে জড়িয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে আদালতে তিনি দায়মুক্তি পেলেও ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে ইসিবির শৃঙ্খলা কমিশন তাকে জরিমানা ও পূর্ব-তারিখ থেকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যাশেজ সফরের বিতর্কের পর ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বলেছিলেন, 'আমি শুরুতেই ছেলেদের বলেছিলাম, এমন কিছু করো না যাতে পরদিন পত্রিকার প্রথম পাতায় চলে আসো। আর মধ্যরাতের পর ভালো কিছুই ঘটে না। তবে আমরা আনন্দও করব।'আরও পড়ুন: রেকর্ড হারালেন মোসাদ্দেক, দেশের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান সোহানতিনি আরও বলেন, 'আমি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিরুদ্ধে নই। বিষয়টা হলো তাদের দেখভাল করা, যাতে তারা ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়।'ইংল্যান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কিও অ্যাশেজ-পরবর্তী সময়ে অস্বীকার করেছিলেন যে দলের 'মদ্যপানের সমস্যা' রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে কয়েকজন খেলোয়াড় সুযোগ পেলে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে পারেন।দ্বিতীয় টেস্টের জন্য এখনও ইংল্যান্ড দল ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তের ফলাফল এবং ইসিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের ভাগ্য, আর হয়তো স্টোকসের অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎও।
Go to News Site