Jagonews24
চীনা সামরিক বাহিনীর (পিএলএ) সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে নজরদারির তালিকায় যুক্ত করেছে পেন্টাগন। এসব প্রতিষ্ঠান চীনা সেনাবাহিনীকে সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোকে এসব কোম্পানির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের চীনবিষয়ক সিলেক্ট কমিটি। হালনাগাদ তালিকায় চীনের প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, জ্বালানি, বায়োটেকনোলজি এবং উৎপাদন খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলিবাবা গ্রুপ, বাইদু, বিওয়াইডি, নিও এবং ওজি অ্যাপটেক। মার্কিন সিলেক্ট কমিটি অন চায়না জানিয়েছে, পেন্টাগন তাদের তথাকথিত ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ তালিকা সম্প্রসারণ করেছে। এই তালিকাটি ‘1260H তালিকা’ নামেও পরিচিত। সিলেক্ট কমিটি অন চায়নার চেয়ারম্যান জন মোলেনার বলেন, সংশোধিত তালিকাটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি গুরুতর সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, চীনা সামরিক কোম্পানিগুলোর এই হালনাগাদ তালিকা মার্কিন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারের সব স্তর এবং আমেরিকান জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এসব চীনা কোম্পানি আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, তাদের অবিলম্বে তালিকাচ্যুত করা উচিত এবং তাদের পণ্যগুলো আমাদের নির্ভরশীল সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হালনাগাদে যেসব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো- আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড,বাইদু ইনকরপোরেটেড, বিওই টেকনোলজি গ্রুপ, বিওয়াইডি কোম্পানি লিমিটেড, সিএএলবি গ্রুপ, ইভ এনার্জি, হাংঝৌ ইউশু টেকনোলজি (ইউনিট্রি), জেএ সোলার টেকনোলজি, নিও ইনকরপোরেটেড, নোভোজিন, রোবোসেন্স টেকনোলজি, তিয়ানমা, মাইক্রোইলেকট্রনিক্স,টি-পি লিংক টেকনোলজিস, ট্রিনা সোলার, উশি অ্যাপটেক, ঝোংজি ইনোলাইট। এর পাশাপাশি চীনা বায়োটেকনোলজি কোম্পানিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষার জন্য আগে নেওয়া দ্বিদলীয় উদ্যোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেন মুলেনার। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আইনে পরিণত হওয়া বায়োসিকিউর অ্যাক্ট (BIOSECURE Act) আমেরিকানদের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষায় সহায়তা করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, বিজিয়াই গ্রুপ এবং ওজি অ্যাপটেক-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পিএলএ-এর জৈবিক গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমকে সহায়তা করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমেরিকানদের সংবেদনশীল স্বাস্থ্যতথ্য সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সূত্র: রয়টার্স কেএম
Go to News Site