Somoy TV
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারত থেকে যেকোনো মূল্যে পুশইন ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকা ঘুরে বিজিবি সদস্যদের জোরদার ও কড়া টহল চোখে পড়ে। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।এর আগে গত ৩১ মে রাতে বেনাপোল রুটে বিএসএফ সীমান্তের সব আলো নিভিয়ে শতাধিক নারী ও শিশুকে ধরে ‘বাংলাদেশি’ দাবি করে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবির কঠোর তৎপরতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজান হোসেন জানান, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে পুশইন করার উদ্দেশ্যে ওপারে বিএসএফের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে প্রচুর মানুষ জড়ো করে রাখা হয়েছে। এই পুশইন রোধে সদর দপ্তরের নতুন নির্দেশনায় আগের চেয়ে বেনাপোল সীমান্তে দেড় গুণ বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।সুবেদার মিজান হোসেন আরও জানান, নিয়মিত পোশাকধারী টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিজিবি সদস্যরা কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ফাঁকফোকর না রাখতে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।বিজিবির সদর দফতর সূত্র জানায়, ভারতের ৫ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার সীমান্ত রয়েছে। এসব সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে, এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে দেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তেই টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।চিহ্নিত ও সতর্কাবস্থায় থাকা ২৬টি জেলা হলো- যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর।আরও পড়ুন: পুশইন ঠেকাতে নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীর যৌথ পাহারাসীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, পুশইন করার জন্য সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে শিশু, নারী ও পুরুষদের জড়ো করছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা কাউকে কাউকে আবার ব্যারাকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে পড়া এসব মানুষকে ভারতেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে তারা চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যে।ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিএসএফ কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৎপর হয়ে উঠেছে। ভারতে জন্মগ্রহণকারী কিংবা দীর্ঘ বছর ধরে সেখানে বসবাসরত অনেককেই হঠাৎ ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। মূলত তার এই ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তজুড়ে পুশইনের এই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
Go to News Site