Collector
Giriş Yap
বিশ্বকাপ: ব্রাজিলের লক্ষ্য হেক্সা আর মিরাকলের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা | Collector
বিশ্বকাপ: ব্রাজিলের লক্ষ্য হেক্সা আর মিরাকলের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ: ব্রাজিলের লক্ষ্য হেক্সা আর মিরাকলের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা

১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো ২৩তম আসরের। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া এই বিশ্বযজ্ঞের এর আগেও ২২টি সফল আসর মাঠে গড়িয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাসে এই আসরগুলোতে শিরোপা জয়ের স্বাদ বা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে মোট আটটি দেশ। ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—ফুটবলের এই মহোৎসবে কোন দেশ ঠিক কতবার ঐতিহাসিক এই শিরোপা জিতেছে?ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ও দুরন্ত দল হলো লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ফুটবল পাগল এই দেশটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড ৫ বার সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে। সেলেসাওরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং সর্বশেষ ২০০২ সালে; ফুটবল সম্রাট পেলের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই জয়যাত্রা এখনও ব্রাজিলকে তালিকার শীর্ষস্থানে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। পেলের যুগ থেকে রোনালদো নাজারিও—প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঐতিহ্য বদলায়নি। তবে বাস্তবতা হলো, ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি আর ছোঁয়া হয়নি ব্রাজিলের। গত কয়েকটি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালই যেন তাদের জন্য এক অদৃশ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর সঙ্গে নেইমারের বারবার চোট দলকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। এবার সেই হতাশা ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে নামছে ব্রাজিল। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর দক্ষতা ব্রাজিলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। গ্রুপ সি-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি। কাগজে-কলমে গ্রুপটি তুলনামূলক সহজ মনে হলেও আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মরক্কোর মতো দল সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে। দলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোর মতো তরুণ তারকারা আছেন, যারা ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন মুহূর্তেই। অন্যদিকে নেইমার এখনো দলের সবচেয়ে বড় নাম, যদিও তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশেলে গড়া এই ব্রাজিল দলকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন।তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধুমাত্র নাম বা ইতিহাস নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা। এখন প্রশ্ন একটাই— ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিল কি পারবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে, নাকি আবারও অপূর্ণ থেকে যাবে সাম্বা সমর্থকদের আশা। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় নাই নেইমার। কিন্তু ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে তার সেরাটা পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্সব্রাজিলের ঠিক পরেই যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে শক্তিশালী দুই পরাশক্তি জার্মানি ও ইতালি। এই দুই ফুটবল পরাশক্তিই ৪ বার করে বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছে; যার মধ্যে জার্মানি শিরোপা জিতেছে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে। অন্যদিকে, ইউরোপের আরেক দল ইতালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে। তালিকায় তিনবার শিরোপা জিতে এককভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে মহাতারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে অভাবনীয় সাফল্যের পর আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নিজেদের তৃতীয় ট্রফি জয় করে আলবিসেলেস্তেরা। তাই মেসি মিরাকেলের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। ৩৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাতার বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সত্যি করেছিলেন তিনি। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে যেন ফুটবল নিজেই পূর্ণতা পেয়েছিল তার হাতে। এখন আর তার কোনো অপ্রাপ্তি নেই, নেই কোনো পাওয়ার তাগিদ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে ফুটবল নামক শিল্পটাকে কেবল উপভোগ করতেই তার এই শেষ রণসজ্জা। আর মেসি যখন রণসজ্জা নেন, তখন তাতে মিরাকল আসতে বাধ্য।আর্জেন্টিনা দলও এখন উড়ছে সাফল্যের আকাশে। সর্বশেষ দুই কোপা আমেরিকা আর ফিনেলিসিমা জিতে নিজেদের অপরাজেয় প্রমাণ করেছে। তবে এবারের মিশনটা লাতিন আমেরিকার দেশটির জন্য একটু ভিন্ন, কারণ, এবার হুলিয়ান আলভারেজরা খেলতে নামবেন তাদের প্রিয় অধিনায়কের বিদায়টাকে রাজকীয় করার জন্য। রাজার বিদায়েও কি অভাবনীয় হবে না? মেসির জন্য এখন আর মাঠের লড়াইটা স্রেফ জেতার নয়, বরং ক্যানভাসে শেষবারের মতো তুলির আঁচড় কাটার। যেখানে মাথায় কোনো চাপ নেই, আছে শুধু বিশুদ্ধ আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ তাই আবারও আটকে থাকবে মেসির সেই চেনা ড্রিবলিং আর জাদুকরী পাসিংয়ের দিকে। 'শেষ' বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কিংবদন্তী লিওনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স ফুটবলকে তিনি যা দিয়েছেন, ফুটবল হয়তো তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে তার চেয়েও বেশি। কিন্তু বুটজোড়া তুলে রাখার আগে ভক্তদের মনে আরও কিছু সোনালী স্মৃতি জমা করতে চান এই মহাতারকা। এক বুক ভালোবাসা আর শূন্য প্রত্যাশা নিয়ে তাই তিনি সবুজ গালিচায় বুনে চলেছেন এক রূপকথা। দলগতভাবে আর্জেন্টিনা জান-প্রাণে লড়ে যাবে নিজেদের মহানায়কের শেষ বিশ্বকাপকে রাঙিয়ে দিতে। মেসির হাতে আরও একবার সোনালী শিরোপা দেখার চেয়েও, দলের লক্ষ্য থাকবে তার মুখে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফোটানো। কারণ ফুটবল বিশ্ব জানে, এমন জাদুকর আর কখনো জন্মাবে না এই চেনা সবুজ ঘাসের মাঠে। আসুন তবে, সব হিসাব-নিকাশ ভুলে আমরা উপভোগ করি এই শেষ যাত্রা। কোনো চাপ ছাড়া, মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে মেসি যখন শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মাঠে দৌড়াবেন, তখন জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বিজয় হবে ফুটবলের সুন্দরের। এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে, আরও একটা মিরাকলের অপেক্ষায় আছে ফুটবল বিশ্ব। যখন মেসি থাকেন মাঠে তখন যেকোনো মিরাকলই ঘটতে পারে, কারণ খোদ ফুটবল ঈশ্বরের হাত আছে মেসির মাথায়। নাকি এই মেসিই ফুটবলের ঈশ্বর? লেখক: চিফ অফ আউটপুট, সময় টেলিভিশন

Go to News Site