Collector
Giriş Yap
বিমা খাতের দাপটে ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার | Collector
বিমা খাতের দাপটে ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার

বিমা খাতের দাপটে ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার

ঢালাও দরপতনের পরেই কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। শেয়ারবাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। অধিকাংশ বিমা কোম্পানি দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানো কারণে অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। ফলে দুই বাজারেই মূল্যসূচক বেড়েছে। সেইসঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে শেষ ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। এর আগে টানা নয় কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার (৮ জুন) শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন হয়। সেই সঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণ। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের সময় গাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির দাপটও বাড়তে থাকে। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানিগুলোর দাপট দেখানো অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাজারে ক্রেতারা সক্রিয় হওয়ায় অন্যান্য খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে যায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১০০টির এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৫টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৭টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২৪ লাখ টাকার। ২৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং রানার অটোমোবাইল। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭০টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এমএএস/এমএএইচ/

Go to News Site