Jagonews24
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্ব হারাচ্ছেন বাসিন্দারা। কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা। ঘরবাড়ি হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গার মানুষের। জানা গেছে, শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রচণ্ড স্রোত ও তীব্র ভাঙনে চরম আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন জানান, গত এক বছরে কালজানি নদীর ভাঙনে প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এলাকার ঐতিহ্যবাহী উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙনকবলিত উত্তর ধলডাঙ্গার তোজাম্মেল হক, ময়েন উদ্দিন, সাহেজ উদ্দিন ও মনির হোসেন এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল জলিল, হাফিজুর রহমান, সুরমান আলীসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক দিনের ভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনই নদী তাদের গিলে খাচ্ছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনসার আলী বলেন, প্রতিদিন অসহায় মানুষ তার কাছে সহায়তার আবেদন নিয়ে আসছেন। কেউ খাবার চাইছেন, কেউ আশ্রয়, আবার কেউ ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখতে শনিবার বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এসময় তার সঙ্গে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা আনোয়ারা বেগম ও আকলিমা বেগম বলেন, ‘এক পাশে নদী, অন্য পাশে ভারত সীমান্ত। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাব।’ ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হবে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে ২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জিওব্যাগ সরবরাহ করা হবে। এদিকে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু নদীভাঙন কবলিত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। রোকনুজ্জামান মানু/এফএ/এএসএম
Go to News Site