Collector
Giriş Yap
ঈদে প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি, অবিক্রিত গরু নিয়ে খামারিদের নতুন পরিকল্পনা | Collector
ঈদে প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি, অবিক্রিত গরু নিয়ে খামারিদের নতুন পরিকল্পনা

ঈদে প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি, অবিক্রিত গরু নিয়ে খামারিদের নতুন পরিকল্পনা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওতাধীন পশুর খামারগুলোতে এবার প্রত্যাশিত গরু বিক্রয় হয়নি বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন খামারি। তবে অবিক্রীত পশুগুলোকে আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলে জানান তারা। কোরবানির ঈদ এলেই সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের দুই উপজেলার গরুর খামারিদের বেচাবিক্রির ধুম পড়ে যায়। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার প্রত্যাশিত বিক্রিতে ব্যর্থ হয়েছেন অসংখ্য খামারিরা। যাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জাগো নিউজ। বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়া ও বড় গরুর প্রতি চাহিদা কমাকে দোষারোপ করছেন তারা। সোনারগাঁ উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের অফিস সহকারী জহিরুল ইসলামের তথ্যমতে, গোটা উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৬৯৬টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে তাদের তালিকায়। এবং অন্তত ৭৯ হাজারের মতো পশু পালিত হয়ে থাকে। এদিকে সোনারগাঁ প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের তালিকায় থাকা অনেক খামারি এবারের কোরবানি উপলক্ষে গরু খামারে উঠাননি, অপরদিকে তালিকায় নাম থাকা সত্বেও বেশ কয়েকজন ইতিপূর্বেই তাদের খামার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে জামপুর ইউনিয়নের সিম্পল এগ্রোর মালিক আবিদ হাসান নাবিল, কাশিপুরের নাহিদ এগ্রো ফার্মের নাহিদ নূর মোহাম্মদ মির, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর আল-আমীন নামের খামারের মালিক, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের খামারি রাজিবসহ অনেকেই কাগজেকলমে তালিকায় থাকলেও খামার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান। প্রতিবছর ক্রেতাদের কাঙ্ক্ষিত গরু দিতে ব্যর্থ হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত আরকে এগ্রো ফার্মে এবার ৩৫০ গরু উঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে ৩০০ গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফার্মের ম্যানেজার মো. নাজির হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অল্প কিছু গরু রয়ে গেছে। বিক্রি না হওয়া ৫০টি গরু ২০২৭ সালে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সোনারগাঁ ডেইরী ফার্ম অ্যান্ড এগ্রো কমপ্লেক্সের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, এবার গরু বিক্রি কম হয়েছে। আমি আমার খামারে কোরবানির জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টি গরু রেখেছিলাম, তার মধ্যকার ২৪টি বিক্রি হয়েছে এবং ১৬টি বিক্রি হয়নি। বাকি গরুগুলো আগামী বছরের পরিকল্পনায় রেখেছি। সোনারগাঁ পৌরসভার উদ্ভবগঞ্জ এলাকার এইচ এম বাবুল বেপারী ডেইরি ফার্মের মালিক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এবছর আমি ১৯টি গরু রেখেছিলাম যার মধ্যকার ১৩টি বিক্রি হয়েছে। অবিক্রিত গরুগুলোকে আগামী বছরের জন্য তৈরি করছি। তবে বিগত সময়ের তুলনায় এবার বাজার খাবাপ গেছে। সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মোতাহার হোসেন খোকন নামক এক খামারি জানান, একটানা ৫ বছর ধরে কয়েক কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এবছর আমার পালিত কিছু গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে রেখেছিলাম তার মধ্যে ১১টি বাছুর বিক্রি হয়েছে। এবার বাজার খুবই বাজে গিয়েছে। তবে অবিক্রীত গরুগুলোকে আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত করছি। সোনারগাঁ উপজেলা প্রার্ণীসম্পদ অফিসার ডা. মোছাম্মৎ নইফা বেগম বলেন, আমাদের উপজেলা ছোট-বড় মিলিয়ে ৬৯৬টি খামার রয়েছে। মূলত আমরা ৫টি গরু থাকাকেও খামার হিসেবে তালিকায় রেখে থাকি। এবং এবারের কোরবানির হাটে পুরো উপজেলায় মোট ২১ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এবছর মূলত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে শেষের দিকে গরু বিক্রিটা কমে গিয়েছে। বিক্রি কম হওয়ার এটাই হচ্ছে কারণ। এবং আমাদের তালিকায় থাকা সত্বেও যারা খামার বন্ধ করে দিয়েছে আমরা নতুন তালিকা প্রস্তুত করাকালীন সময়ে তাদের নাম সরিয়ে দেবো। মো.আকাশ/এনএইচআর/এমএস

Go to News Site