Collector
Giriş Yap
সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিছু কাটলে কি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়? | Collector
সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিছু কাটলে কি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়?

সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিছু কাটলে কি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়?

চলতি বছর বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকছে মহাকাশপ্রেমীদের। এজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট বিরল মহাজাগতিক এই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান হবে।অনেকে জানতে চান, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিছু কাটলে কি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়? এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, এটি একটি ভুল বিশ্বাস। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামি শরিয়তে যেমন এর কোনো ভিত্তি নেই তেমনি বিবেক-বুদ্ধিও এ ধরনের অলীক ধারণা সমর্থন করে না। অতএব এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পবিত্র কোরআনে সূর্য-চন্দ্র প্রসঙ্গ পবিত্র কোরআনে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে সূর্য ও চন্দ্র প্রসঙ্গ। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন। (সুরা ইউনুস ৫) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি সৃষ্টি করেছি একটি প্রজ্বলিত বাতি।’ (সুরা নাবা ১৩) পবিত্র কোরআন আরো বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে, আর সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে।’ (সুরা নুহ ১৬) ‘আর তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদকে; এবং নক্ষত্ররাজিও তারই নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয় এতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে অনেক নিদর্শন। (সুরা নাহল ১৬) আরও পড়ুন: ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত? ‘আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।’ (সুরা ইবরাহীম ৩৩) হাদিসে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ মুগিরা ইবনু শুবা রা. বলেন, ‘রসুল সা-এর পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুর দিনটিতেই সূর্যগ্রহণ হয়। তখন আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম যে, নবীপুত্রের মৃত্যুর কারণেই এমনটা ঘটেছে। আমাদের কথাবার্তা শুনে রসুল সা. বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর অগণিত নিদর্শনগুলোর মধ্যে দুটি নিদর্শন, কারোর মৃত্যু বা জন্মের ফলে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ হয় না। (বুখারি ১০৪৩; মুসলিম ৯১৫) হজরত আবু বকর রা. বর্ণনা করেন, আমরা রসুল সা.-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। রসুল সা. তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করেন। আমরাও প্রবেশ করি। তিনি আমাদের নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘কারও মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা কেটে যাওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে এবং দোয়া করতে থাকবে।’ (বুখারি ৯৮৩) হজরত আবু মুসা রা. বলেন, রসুল সা. -এর যুগে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এই আশঙ্কায় উঠে দাঁড়ালেন যে, কিয়ামতের মহাপ্রলয় বুঝি সংঘটিত হবে। তিনি দ্রুত মসজিদে চলে আসেন। এরপর অত্যন্ত দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু ও দীর্ঘ সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। আমি আর কোনো নামাজে কখনো এমন (দীর্ঘ) দেখিনি। এরপর রসুল সা. বলেন, আল্লাহর এসব নিদর্শনাবলি কারও মৃত্যুর কারণে হয় না, কারও জন্মের কারণেও হয় না। তিনি এগুলো প্রেরণ করেন তার বান্দাদের সতর্ক করার জন্য। যখন তোমরা এসব নিদর্শনাবলির কিছু দেখতে পাও তখন তোমরা আতঙ্কিত হৃদয়ে আল্লাহর জিকির-স্মরণ, দোয়া ও ইস্তিগফারে ব্যস্ত হও। (মুসলিম ১৯৮৯)

Go to News Site